Tuesday, September 12, 2017

উদ্যোক্তা হতে চান? নিজের পকেট শুন্য?আসলেই কি উদ্যোক্তা হতে অনেক টাকা লাগে?কত টাকা হলে সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন?


উদ্যোক্তা হতে চান? নিজের পকেট শুন্য?আসলেই কি উদ্যোক্তা হতে অনেক টাকা লাগে?কত টাকা হলে সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন?
উদ্যোক্তা হতে টাকা লাগেনা,দরকার মেধা,শ্রম,বুদ্ধি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।এক্ষেত্রে চাঁদমামা হতে পারে আপনার স্বপ্ন পুরনের চাবি!! কিন্তু কিভাবে??? 
উদ্যোক্তার স্বপ্ন চাঁদমামা এই বইয়ের নাম দেওয়া হল কেন? সবার মধ্যেই এই প্রশ্নটা কাজ করছে? তাই না? এবার আসা যাক উদ্যোক্তা কি এবং কাকে বলে? শুরুতেই এত প্রশ্ন দেখে আপনি কি বিরক্ত?এই দেখুন আবার একটা প্রশ্ন করলাম।  
উদ্যোক্তা শব্দটা যদিও আমাদের সবার পরিচিত কিন্তু আমরা অনেকেই এই শব্দের অর্থ ও গুরুত্ব বুঝি না।
অনেকেই মনে করেন ব্যবসায়ী বলতেই উদ্যোক্তা,এটা সম্পুর্ণ ভুল ধারণা।মনে রাখবেন “সকল উদ্যোক্তাই ব্যবসায়ী কিন্তু সকল ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা নয়।” তাহলে এবার আসা যাক ব্যবসায়ী কাকে বলে?যারা বংশ পরিক্রমায় পুর্ব পুরুষের ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং অনেক বেশী মূলধন নিয়ে সচরাচর বা প্রচলিত লাভজনক ব্যবসা গুলো শুরু করেন তাদেরকে মুলত ব্যবসায়ী বলা হয়।মনে রাখবেন “ব্যবসা করতে বেশী পরিমাণের মূলধন লাগে কিন্তু উদ্যোক্তা হতে দরকার মেধা,শ্রম,বুদ্ধি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।” উদাহরণ-যদি বলি আপনাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে আপনি এটা দিয়ে বড় ব্যবসায়ী হবেন।তখন আপনি বলবেন কম টাকা দিয়ে ব্যবসা করা যাবে কিন্তু বড় ব্যবসায়ী হওয়া যাবে না।এবার যদি আপনাকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় তখন আপনি এলাকায় একটা দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করবেন তাই নয়কি?ধরি,আপনি এলাকায় একটা মুধিমালের দোকান দিলেন আপনার প্রতিমাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকা লাভ  থাকলে ২ বছরে হবে ১২ লক্ষ টাকা।এইভাবে বড় ব্যবসায়ী হওয়া যাবে না।অর্থাৎ বড় ব্যবসায়ী হতে হলে আপনাকে অনেক বেশী পরিমাণের টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এবং বড় ব্যবসা করতে হবে।কিন্তু যদি আপনার মেধা,শ্রম,বুদ্ধি, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও বাস্তবধর্মী আইডিয়া থাকে তাহলে আপনি উদ্যোক্তা হতে পারবেন অর্থাৎ বড় ব্যবসায়ী হতে পারবেন। কিন্তু কিভাবে?ধরলাম আপনার কাছে বেশী মূলধন নাই কিন্তু উদ্যোক্তা বা বড় ব্যবসায়ী হবেন।তাহলে বাস্তবধর্মী আইডিয়া/বুদ্ধি বের করতে হবে  এবং সাথে অদম্য ইচ্ছাশক্তি লাগবে কারণ আপনাকে অনেক বেশী পরিশ্রম করতে হবে এবং প্রথম দিকে ধৈর্য্য ধারণ করে লেগে থাকতে হবে ।শুরু করা যাক ব্যবসা,প্রথমেই আপনি এলাকার খোলা বাজার থেকে মরিচ,হলুদ,মসলা বা যেখানে এসব বেশি উৎপাদন হয় ও দাম কম সেখান থেকে কিনে আনবেন।এবার মরিচ,হলুদ,মসলা স্থানীয় মেশিনে গুঁড়ো করে ঘরে ২ জন কর্মী রেখে সুন্দর ডিজাইন করা প্যাকেটে প্যাকেটজাত করবেন।তারপর স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে নিজের পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করলেই দেখবেন আপনার পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হবে।কারণ আপনি দোকান মালিককে ১০০% আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারবেন আপনার পণ্যে কোন ভেজাল নাই এবং আপনি অন্যান্য কোম্পানীর পণ্যের চাইতেও কম দিয়ে দোকানে বিক্রয় করতে পারবেন।কারণ অন্যান্য কোম্পানীর মত আপনার বিজ্ঞাপন খরচ নাই।মনে রাখবেন,কোন কোম্পানির পণ্যের উৎপাদন খরচের চাইতেও কয়েকগুণ বেশী খরচ হয় প্রচারণায়। আপনার পণ্যের গুণাগুণ ও দাম কম থাকবে বিঁধায় ধীরে ধীরে আপনার পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে ।এভাবে স্থানীয় বাজারের পর আশে পাশের বাজার,তারপর নিজের উপজেলা এরপর জেলা পর্যায়ে আপনার পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন । এভাবেই ২ বছরের মধ্যে আপনি সারা বাংলাদেশে ব্যবসা প্রসার করতে পারবেন ও প্রচুর জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন এবং নিজেকে সফল একজন ব্যবসায়ী হিসেবে দেখতে পারবেন । কি ভাবছেন? যে আইডিয়া দিলাম সেটা শুরু করে সফল হয়ে যাবেন? এই আইডিয়া অনেকেই ইতিমধ্যে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।  অর্থাৎ এই আইডিয়া এখন পুরাতন বা গতানুগতিক হয়ে পড়েছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও আমরা মরিচ,হলুদ প্যাকেটজাত হবে তা কল্পনা করি নাই কিন্তু এখন দেখবেন বাজারে বিভিন্ন কোম্পানীর প্যাকেটজাত মরিচ,হলুদ রয়েছে। তাহলে বলা যায় আজ থেকে ১০ বছর আগে যেকোন একজন এই ভিন্নধর্মী আইডিয়া প্রথমে শুরু করেন। আপনি হয়ত চিন্তা করছেন, বাজারের খোলা মরিচ,হলুদ প্যাকেটজাত করণ এটা তেমন কি ভিন্নধর্মী আইডিয়া? যিনি বা যারা প্রথম এই আইডিয়া বা প্যাকেটজাত মরিচ,হলুদ বাজারজাত করণ করেছিলেন তারাই এখন সফল ব্যবসায়ী। তাদের বিনিয়োগ ছিল কম কিন্তু সফলতা অনেক বেশী। 
মনে রাখবেন,প্রতিবন্ধকতা সব সময়ই থাকবে। কিন্তু সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। লেগে থাকার প্রবণতা থাকলে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে।  ব্যবসার অনেক সুযোগ আছে। সেসব কাজে লাগাতে হবে। ইচ্ছা থাকলে ছোট দিয়ে শুরু করে বড় হওয়া যায়। চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে বড় হওয়া কোন বিষয় নয়। ছোট বেলা থেকেই যেকোন কাজ ভিন্নভাবে করতে চেষ্টা করতাম। জীবনে সব সময় দুটি জিনিস মেনে চলেছি। বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়,অবশ্য সব স্বপ্নই বাস্তবায়িত হবে এমন নয়। যদি শুধু মাত্র ৬০-৭০% স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়,তাহলেই মানুষের জীবন বদলে যায়। দ্বিতীয় হল ব্যবসা করতে মূলধন লাগে না— লাগে স্বপ্ন ও সাহস।আমিই এর বড় প্রমাণ। যখন ব্যবসা শুরু করি তখন সাহস, সততা আর পরিশ্রম করার মানসিকতা ছাড়া আর কোন মূলধন ছিল না আমার। আজ চাঁদমামা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি কেবল স্বপ্ন দেখার অভ্যাসের কারণে।আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের গল্প আর দশজনের মতোই সাধারণ। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ফলে ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল নিজে কিছু করব, বড়লোক নয় সফল ব্যাক্তি হব। এখানে সফল ব্যাক্তি বলতে কি বুঝালাম? চিন্তা করুণ আপনি আমি কেনো বড়লোক হব? কারণ বড়লোক হলে ভালভাবে জীবনযাত্রা করা যাবে। মনে করেন আপনি বড়লোক হলেন কিন্তু দেশে বেকার সমস্যার কারণে যুবসমাজ হতাশায় ডুবে নানা রকম অপরাধ যেমন মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষন,চাঁদাবাজি,হাইজ্যাকিং ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে সুন্দর সমাজ টাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে। ফলে আপনি বড়লোক হয়েও শান্তিতে ও ভালভাবে জীবনযাত্রা করতে পারবেন না। এবার আসা যাক সফল ব্যাক্তি বলতে কি বুঝায়? যখন আপনি উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা পাবেন তখন অনেক নতুন কর্মসংস্থান দিতে পারবেন এবং আপনাকে দেখে যুবসমাজ অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে। ফলে দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বেকার সমস্যা দূরীকরণের মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সকলের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশ ও জাতি উন্নত হবে। নিজের সাথে সাথে দেশের বা সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারাটাকেই সফলতা বুঝানো হয়েছে।   
ব্যবসায়ী- পুরাতন বা গতানুগতিক ধারার ব্যবসা গুলোতে কম মূলধন বিনিয়োগে ছোট ব্যবসায়ী এবং  বেশি মূলধন বিনিয়োগ করে বড় ব্যবসায়ী হওয়াকে ব্যবসায়ী বলে। 
উদ্যোক্তা-কম বা বেশী মূলধন যাইহোক মেধা,শ্রম,বুদ্ধি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির সাথে বাস্তবধর্মী আইডিয়া সংমিশ্রণ করে সময়ের সাথে সাথে সফল ব্যবসায়ী হওয়াকে উদ্যোক্তা বলে।
ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তার মধ্যে পার্থক্যঃ
ব্যবসায়ীরা পুরাতন বা গতানুগতিক ধারায় ব্যবসা গুলো পরিচালনা করেন বিঁধায় তাদের অগ্রগতি ধীরে হয় কিন্তু উদ্যোক্তারা নতুন বা প্রচলিত ব্যবসা্কে গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে ভিন্নভাবে বাস্তবতার সাথে মিল রেখে সহজে ও কমসময়ের মধ্যে বেশী সফলতা পাওয়ার জন্য নতুন পদ্ধতি বা আইডিয়া প্রয়োগ করেন ফলে তারা প্রথমদিকে লাভের মুখ কম দেখলেও তুলনামুলক কম সময়ের মধ্যে অনেক বেশী সফলতা অর্জন করতে পারেন। সবচাইতে বড় কথা হল ব্যবসায়ীদের সফলতা একমুখী ও সীমাবদ্ধ অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের সফলতার সিঁড়ি বহুমুখী ও অসীম।   
অতএব,ব্যবসায়ী থেকেও উদ্যোক্তা হওয়া শ্রেয়।  
এতক্ষণ আলোচনা করলাম ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা এই দুইটা বিষয় নিয়ে,অর্থাৎ প্রথমত সবাই আমার সাথে একমত হবেন, যেহেতু আমাদের দেশে বিনিয়োগ খুবই কম এবং বিনিয়োগ পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য বিষয় তাই ব্যবসা করতে হলে কম বিনিয়োগ দিয়েই এমন ব্যবসা করতে হবে যেসব ব্যবসা দিয়ে নিজের অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়। কিছু ব্যবসা আছে যা দিয়ে আপনি ভালভাবে চলতে পারবেন কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হবে না আর কিছু ব্যবসা আছে প্রথম দিকে আপনার চলতে কষ্ট হলেও সময়ের সাথে সাথে আপনার অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রথম ধরণের ব্যবসায় আপনার মূলধন বেশী লাগবে এবং লোকসানের সম্ভবনা কম আর ২য় ধরণের ব্যবসায় আপনার মূলধন কম বেশী যায় হোক লোকসানের সম্ভবনা বেশী থাকবে এবং সফলতার সম্ভবনাও বেশী থাকবে। মনে রাখবেন বিশাল কিছু পেতে হলে ছোট কিছু ছাড়তে হয়। যেকোন কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বলবে ১ম ধরণের ব্যবসা করাই ভাল কারণ অনেক বেশী নিরাপদ,কিন্তু উদ্যোক্তা মনোভাবের তরুণদের জিজ্ঞেস করলেই ২য় ধরণের ব্যবসা পছন্দ করবে। মনে রাখবেন ভাল কিছু পেতে হলে লোকসান বা ক্ষতির পরিমাণ বেশী থাকে এই ক্ষতির বিষয়টি ভাষা সৈনিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মাথাই থাকলে আজ আমরা বাংলায় কথা বলতে পারতাম না এবং স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পারতাম না। যারা ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজী রেখেছিলেন তারা ক্ষতির কথা চিন্তা না করে বেশী সুফল বা সফলতা পাওয়ার জন্যই জীবন দিয়েছিলেন এবং তারা  পরিবর্তন চেয়েছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন দেশের জনগণ। যদিও বেশিরভাগ মানুষ পৃথিবীতে চিরাচরিত নিয়মকে সহজ নিয়ম মনে করে থাকে বা পরিবর্তনে ভয় পায়,কিন্তু যুগে যুগে আমরা দেখেছি তরুণ উদ্যোক্তারা পুরাতন নিয়ম ভঙ্গ করে নতুন নিয়মের মাধ্যমেই বার বার পজিটিভ পরিবর্তন বা সুফল নিয়ে এসেছে। পৃথিবী পরিবর্তনশীল তাই পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো উচিত,আপনি চিন্তা করছেন ঠিক বলছি নাকি ভুল? যদি পরিবর্তন মেনে না নিতে পারেন তাহলে পরিবর্তনের সুফল তথ্য প্রযুক্তি আপনি কেন ব্যবহার করছেন? আর পরিবর্তন না মানলে আমরা আদিম যুগেই থেকে যেতাম,বর্তমান আধুনিক যুগ আমাদের কাছে কল্পনাতীত থাকত।  
এতক্ষণের আলোচনার পর অনেকেই বলবেন ব্যবসা করতে মূলধন লাগে,আপনার কাছে মূলধন নাই তাই আপনি ব্যবসা করতে চাইলেও পারবেন না অন্যদিকে উদ্যোক্তা হতে হলে রিস্ক নিতে হয় আর আপনি রিস্ক নিতে ভয় পান তাই উদ্যোক্তা হওয়াও সম্ভব না। ঠিক আছে মেনে নিলাম আপনার কথায় যুক্তি আছে। তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন আপনি পড়ালেখা করছেন কেন? উত্তরে বলবেন চাকরি করার জন্য। আরো বলবেন সবাই উদ্যোক্তা হলে উদ্যোক্তাগণ প্রতিষ্ঠানের জন্য চাকরিজীবি কোথায় পাবেন। ঠিক আছে মেনে নিলাম আপনি চাকরি করবেন। কিন্তু সবাই যদি চাকরি করেন তাহলে উদ্যোক্তা হবেন কে? আর উদ্যোক্তাই যদি না থাকে তাহলে প্রতিষ্ঠান হবে না আবার প্রতিষ্ঠান না থাকলে আপনি চাকরি করবেন কোথায়?এই পৃথিবীতে সবাই ডাক্তার,সবাই ইঞ্জিনিয়ার,সবাই উদ্যোক্তা বা সবাই চাকরিজীবি হবে না এটা সবাই জানি। কিন্তু আপনি আমি উদ্যোক্তা না হলে বর্তমান বেকার সমস্যা দূর হবে কিভাবে?বলবেন সেটা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের একার পক্ষে কখনো এত বেশী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব না। আর তাই দিন দিন বেকার সমস্যা বাড়তে থাকবে আর দেশের তরুণ সমাজ ভাল ভাল ডিগ্রী নিয়ে চাকরীর অভাবে পরিবারের কথা শুনতে শুনতে হতাশ হয়ে কোন একদিন আত্মহত্যা করে নিজের জীবন শেষ করবেন অথবা পথ ভ্রষ্ট হয়ে সন্ত্রাসী,মাদক বা কালোবাজারি হয়ে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে,হ্যাঁ আমি আবার বলছি দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনবে বেকার জনগোষ্টি। এরপরও যদি আপনার সুবুদ্ধি না হয় তাহলে বলব ঠিক আছে আপনি ডিজিটাল দাস হয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেন।  
আমাদের দেশের কাধে বেকারত্বের হার প্রতি বছরই বাড়ছে। সরকার পারছে না তাদেরকে সুযোগ তৈরী করে দিতে। আর আমাদের নিজেদের মানুষিকতারও পরিবর্তন ঘটাতে পারছি না আমরা। এর পেছনের কারন খুঁজতে চলুন ফেলে আসা সময়ে একটু ঘুরে আসি….
বৃটিশ আমাদের অনেক কিছুই শিক্ষা দিয়েছে কিন্তু আমরা আজও তা অনুভব করতে পারিনি। বাঙালীর হাতে চায়ের কাপ তুলে দিয়ে নিজেদের ব্যবসাকে সে সময় করেছিল সমৃদ্ধ এই বৃটিশ। নীল চাষে বাংলার কৃষকদের বাধ্য করে মসলিন কারিগরদের সমৃদ্ধ ব্যবসার ইতি টানতেও বাধ্য করেছিল তারা।
বৃটিশরা নিজেরা ব্যবসায়িক সফলতার শীর্ষে থাকলেও তারা এ বাংলার মানুষের মনে দাসত্বটা ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে। তারা বাঙালীর মনে খুব ভালভাবে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে যে চাকুরীতেই সম্মান আর নিশ্চয়তা। আর আজও আমরা সেই শৃঙ্খল ভাঙতে পারিনি। নিজেকে তাই চাকর যার শ্রুতিমধুর উচ্চারন চাকুরীর মধ্যে আটকে রেখেছি।
সেই বৃত্ত থেকে নিজেকে বের করে আনতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে নিজের স্বকীয়তাকে। প্ররিশ্রম আর মেধার সমন্বয় করতে হবে ছাত্র জীবন থেকেই। আপনি নিশ্চয় জানেন ছাত্র জীবনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ উক্তিটি। সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাহলে আপনি কেন ছাত্র অবস্থায় ব্যবসা করতে পারবেন না? আপনি লেখাপড়া শেষ করবেন তারপর ব্যবসা করবেন ততদিনে আপনি আপনার জীবন থেকে কতটা বছর পিছিয়ে পড়বেন তা কি ভেবেছেন? যে সময়ে এসে পড়াশুনা শেষ করবেন ততদিনে আপনার ব্যবসায়িক জীবনে প্রতিষ্ঠাও পেয়ে যেতে পারেন।
আপনি প্রথমত সিদ্ধান্ত নিন আপনি কি শিক্ষা জীবন শেষে শিক্ষিত চাকর হবেন নাকি নিজেই হবেন শিক্ষিত চাকরদের বস?
আপনি পড়াশুনা করেন, কি ধরনের ব্যবসা করবেন পড়াশুনার পাশাপাশি? পড়াশুনার সাথে ব্যবসা করার টাইম কিভাবে ম্যানেজ করবেন? আপনার পারিবারিক ভাবে কতটা সাপোর্ট পাবেন? পড়াশুনা আর ব্যবসা দুটো একসাথে কি করে করা সম্ভব? এসব প্রশ্ন জট থেকে বেড়িয়ে আসুন।
নিজেকে স্থির করুন আপনার দুটোই করা সম্ভব। প্ররিশ্রম আর মেধাকে কাজে লাগান। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে কাজে নেমে পড়ুন। আর ব্যবসার আয়কে ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগ করতে সঞ্চয় করুন।
ছোট থেকে কিছু করার চেষ্টা করুন। শর্টকাটে বড় হওয়ার চিন্তা মাথায় থাকলে আগে থেকেই বাদ দিয়ে দিন। বিলগেটস এর থেকে বড় ধনী হতে আপনাকে খুব বেশী ভাল ছাত্র হতে হবে না। তবে ধৈয্যের প্রয়োজন হবে। লেগে পড়ে থেকে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুজতে হবে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করা জানতে হবে। আপনার কাজ নিয়ে যে যা মন্তব্য করুক তাতে আপনার কি যায় আসে? আগে আপনি সন্তুষ্ট হন আপনি যে কাজ করবেন তার ওপর।
কত ধরনের ব্যবসা মানুষ করছে? আপনার কাছে যেটা পছন্দ তা থেকেই বেছে নিন না একটা। হতে পারে সেটা মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসা, কিংবা কোচিং সেন্টার, নার্সারী কিংবা বাড়িতে বসেই হাস, মুরগী, কোয়েল পাখি পালন, গরুর মাংশ উৎপাদন অথবা দুগ্ধ খামার। কবুতর পালন করে মুক্তির স্বাদও নিতে পারেন নিজেকে সাবলম্বী করে।
বেকারত্ব ঘুচাতে করে ফেলতে পারেন হস্ত কিংবা কুটির শিল্পের ছোট্ট একটা শপ কিংবা শো পিসের দোকান। যারা একটু তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে ভালবাসেন তারা দিতে পারেন কম্পিউটার বা মোবাইল এর দোকান কিংবা সার্ভিসিং সেন্টার। সৃজনশীল যারা আছেন সেই সাথে ফ্যশন সচেতন তারা কেন ফ্যাশন হাউজ বা গার্মেন্টস এর তৈরী পোষাকের ব্যবসা থেকে দূরে থাকবেন।
অধিকাংশ মেয়েদের প্রিয় খাবার চটপটি ফুসকার দোকানও করতে পারেন কিংবা ফাষ্ট ‍ফুডের দোকান করতে পারেন। অফিস পাড়ায় দুপুরে বিরিয়ানী বিক্রি করে যে আয় কম নয় তাও কিন্তু না।
গ্রামে আছেন শহুরে ব্যবসার সুযোগ নেই। তাতে কি আপনার নিজের জমি অথবা পাশেরই কারো জমি লীজ নিয়ে করতেপারেন শাক-সবজির চাষ। মজা-পচা ‍পুকুরটা পরিস্কার করে মাছ চাষ করতে পারেন। আপনার পাশেরই বাজারে কিংবা হাটে ফসল বেচাকেনার কোন একটা ব্যবসা করেও হতে পারেন সফল। উন্নত প্রযুক্তির সেবা কৃষকদের সরবরাহ করেও হতে পরেন সফল ব্যবসায়ী।
আরও যে কত কত ধরনের ব্যবসা আছে তা আপনি করে যেতে পারেন নিঃসংকোচে। আপনার দ্বারা সৃষ্টি হতে পারে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের। আপনি চাইলেই পারবেন চলমান ব্যবসার নতুন কোন ব্যবসায়িক রুপ দিতে কিংবা নতুন কোন ব্যবসায়ের সৃষ্টি করতে। যেটা আপনার নাম বহন করে এনে দিবে দাসত্বমুক্ত পরিচয়। সফল উদ্যোক্তার পরিচয়।
যেখানে দেশে বিশ লক্ষের বেশী বেকার দ্বারে দ্বারে টাক খেয়ে বেড়াচ্ছে হতাশা নিয়ে।
চাকর যার শ্রুতিমধুর উচ্চারন চাকুরী। বৃটিশ আমাদেরকে যখন শাসন করেছে তখনই আমাদের মনে খুব ভালভাবে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে চাকুরী মানেই নিরাপত্তা। চাকুরী মনেই সম্মান। চাকুরী মানেই নিশ্চিত আয়। আর সেই সময়ে আমাদেরকে ব্যবহার করে বৃটিশ তার ব্যবসায়ের রাজত্ব আর প্রভাব বিস্তার করেছে। আমাদের সমৃদ্ধ মসলিন শিল্পকে ধ্বংস করে নীল চাষে বাধ্য করেছে। দাসত্ব কিভাবে অর্জন করতে হয় প্রতিযোগীতা করে তাও খুব ভাল করে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।
নিজে কিছু একটা করব, উদ্যোক্তা হব, ব্যবসায়ী হব, সেরা ধনীদের একজন হব, সুপারম্যান হব, সুপার হিরো হব। ছোট বেলার এমন স্বপ্নগুলো কবে কবরে পাঠিয়েছেন বলতে পারবেন? ছোট বেলা ম্বপ্ন গুলো দেখেছেন ঠিকই কিন্তু লালন করতে পারেন নি। অনিশ্চয়তা দেখে ইদুরের গর্তে মুখ লুকিয়ে বলছেন চাকুরীই তো ভাল। মাস গেলেই বেতন। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য, নিজে কিছু করার জন্য চেষ্টা করেছেন বিফল হয়েছেন। আর ফিরে এসে সেই হাল ধরতে পারেন নি। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন এই চাকুরী নামক নিরাপত্তার খোঁজে। কখনওবা নিজেকে সপে দিয়েছেন মৃত্যুর মুখে কিংবা হারিয়েছেন শেষ সম্বল ভিটা মাটি টুকুও প্রতারণায় পড়ে।
ঝুঁকি নিতে চান না কেন? একটা ঝুঁকি নিয়ে যদি জীবনের স্বাদ গ্রহন করা যায়, স্বপ্নগুলোকে আলোর মুখ দেখানো যায়, দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাহলে কিসের এত ভয়। রোম যেমন একদিনে তৈরী হয়নি সফলতাও একদিনে আসবে না এটুকু বুঝতে কেন এত অসুবিধা হয়? ধৈয্য ধরে লেগে থাকুন আপনার পছন্দের কাজ নিয়ে। শিক্ষাকে চাকুরী পাবার উপকরন হিসেবে না দেখে নিজেকে সমৃদ্ধ করার উপকরন হিসেবে গ্রহন করুন। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়তে আরও একবার ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করুন।
শিক্ষিত চাকর হওয়ার চেয়ে শিক্ষাকে নিজের কাজে লাগান। শিক্ষা যখন নিজের কাজে লাগাতে পারবেন তখন আপনি হবেন আপনার বস। আর কর্মসংস্থান হবে আপনার গড়া প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য মানুষের। আপনার ভেতরের ভীতি টাকে জয় করুন। যতক্ষন পর্যন্ত না অনিশ্চিয়তার মধ্যে নিশ্চয়তা খুজে নিতে না পারছেন ততক্ষন পর্যন্ত বড় কিছুর দেখা পাবেন না। বড় কিছু করতে গেলে স্রোতের বিপরীতে চলেই করতে হয়। শিক্ষালব্ধ জ্ঞানকে নিজের জন্য কাজে লাগান চাকুরীর প্রত্যাশায় জুতার তলা ক্ষয় না করে।
চাকুরী আপনাকে যা থেকে বঞ্চিত করেছে তা শুনলে আতকে উঠতে পারেন। চাকুরী আপনার সৃজনশীল সৃষ্টির ক্ষমতাকে গলাটিপে হত্যা করেছে। আপনার মধ্যকার উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাকে নয়টা পাচ টার যাতাকলে ফেলে বড় হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ করেছে। যেখানে আপনি নিজেই নিজের বস হতে পারতেন সেখানে আপনাকে অন্যের চাকর করেছে।  আপনার ভেতরের জেগে ওঠার ক্ষমতাকে দাসত্বে পরিণত করেছে। আপনার যে ছোট্টশিশুটি বাবা বাবা বলে আপনাকে কাছে পেতে চায় তাকে অতৃপ্ত করেছে।
নিশ্চিত কিছুর জন্য থাকলে তো অনিশ্চিতের সম্ভাবনা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। অনেকেই ভাবেন আর চাকরি বাকরি করব না। এবার নিজেই কিছু একটা করব। কিন্তু বের হয়ে আসতে পারেন না সেই নিরাপত্তার বৃত্ত থেকে। আবার অনেকেই বলেন চাকুরী জীবন শেষে পেনশনের টাকা দিয়ে শুরু করে অল্প দিনেই সেরা ধনী হয়ে যাব। কিন্তু তাদের দৌড় কতদুর? লাইফের ত্রিশটা বছরের যৌবন তো চাকুরী আপনার কাছ থেকে নিয়েই নিয়েছে। আপনার শক্তি, সামথ্য, মেধা, সময় কোনটাই চুষে নিতে ভুল করেনি আপনাকে নিযোগকারী প্রতিষ্ঠান। আপনাকে যদি বিশ হাজার টাকা বেতন দিয়েছে তো তার বিপরীতে আপনাকে দিয়ে দুই লক্ষ টাকা আয় করে নিয়েছে।
জীবনটা চামচে মার্বেল রেখে দৌড় খেলার মতই। আপনি দৌড়ে প্রথম হলেও চামচ থেকে মার্বেল পড়ে গেলে আপনার অর্জন শূন্য।  জীবনের উচ্ছাস-উত্তেজনা, অনুভূতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে দাসত্ব থেকে আপনাকে মুক্ত হতে হবে। জ্বালানী বিহীন গাড়ির মত গতিহীন জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে ইদুরের গর্তে মুখ লুকিয়ে থাকা অনেক ভাল। নিরপত্তার জন্য সম্ভাবনাকে হত্যা করার কি দরকার। চেষ্টা করেই দেখুন। আপনার চেষ্টা আপনাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য দরজা খুলেই রেখেছে।
জীবনে বড় হতে হলে স্বপ্নবাজ হওয়া খুবই জরুরী। অনেকে আমার মতের সাথে ভিন্নমত পোষন করতেই পারেন। তারপরও বলি বাবার টাকায় বড় হওয়া আর শুন্য হাতে স্বপ্ন লালন করে বড় হওয়া ভিন্ন ব্যাপার।
সমাজের শ্রেনী বিভক্তির জায়গা থেকে একটি নিন্মবিত্ত বা মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানকে কতটা বেশী ভাল থাকার অভিনয় করতে হয় তা একমাত্র সেই জানে। আবার সবচেয়ে হতাশার মধ্যে তারাই ডুবে থাকে। সোনার চামচ মুখে নিয়ে যাদের জন্ম নয় তারা যে জীবনে বড় কিছু করবে না তাও কিন্তু নয়।
যারা জীবনে বড় হয়েছে তারা তাদের স্বপ্নকে লক্ষ ধরে নিয়েই কাজ করেছে। সেই সাথে পরিশ্রম আর লেগে থাকার বিনিময়ে সফলতাও পেয়েছে। জীবনে বড় হতে হতে হলে অনেক শিক্ষিত হতে হবে এমন কথাও নেই। অনেক সল্প শিক্ষিত ঝরে পড়া ষ্টুডেন্টও জীবনে বড় কিছু করেছে। কারন তাদের স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাস ছিল আকাশের ওপারে।
বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ, স্টিভ জবস – এই তিনজনের মধ্যে দারুন একটা মিল আছে। কোথায় জানেন? তারা তিনজনই ইউনিভার্সিটি ড্রপ আউট স্টুডেন্ট। জাকারবার্গের তাও ব্যাচেলর ডিগ্রি আছে, অন্য ২ জনের তাও নেই। এদের প্রত্যেকের সফলতার পেছনে ছিল জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন।
আন্ড্রু কার্নেগী গরীব ঘরের ছেলে ছিলেন। তিনি একটি খামারে কাজ করতেন। এবং সেখান থেকে পরবর্তীতে তিনি আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হয়েছিলেন।
হলিউড অভিনেতা ব্রাড পিট প্রথম জীবনে ‘এল পল্লো লোসো’ নামের এক রেস্টুরেন্টে মোরগের ড্রেস পরে হোটেলবয় এর কাজ করতো।
টমাস এলভা এডিসনকে ছোটবেলায় সবাই বোকা এবং সেই সাথে গাধাও বলত । তিনি পড়াশোনায় একদমই ভালো ছিলেন না। তবুও তিনি একজন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন। বিস্ময়কর ফুটবলার “মেসি” যে কিনা একসময় নিজের ফুটবলের ট্রেনিং এর খরচ যোগাতে চায়ের  দোকানে কাজ করতেন। অনেকেই জানেন এইসব মানুষের সফল হওয়ার ইতিহাস কিন্তু সবাই মনে করেন এগুলো শুধুই অনুপ্রেরণার গল্প। যা শুধু পড়তেই ভালো লাগে কিন্তু নিজের জীবনে কাজে লাগানো সম্ভব না। অনেকেই বলবেন তখন সুযোগ ছিল এবং প্রতিযোগিতা কম ছিল তাই তারা সফল হয়েছিলেন কিন্তু আজকালতো সেই ধরনের সফলতা দেখা যায় না। আপনি আমি সবাই যদি একই কথা বলতে থাকি তাহলে বর্তমানে সফল হবে কে? আজকে আপনি শুরু করুন দেখবেন ১০-১৫ বছর পর আপনার সফলতার গল্প অন্যরা পড়ছে। যেমনটি শুরু করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ ২০০৪ সালে,মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে তিনি আজ বিশ্বের সফল একজন উদ্যোক্তা। 
যখন মোবাইল আবিষ্কার হয় নাই তখন যদি আপনি বলতেন তারবিহীন টেলিফোন অর্থাৎ মোবাইল পকেটে নিয়ে ঘোরে বেড়াবেন তখন আপনি পাগল আর এখন আপনি মোবাইল ব্যবহার না করলে পাগল। আজ থেকে ১৩ বছর আগে আপনি কাউকে যদি বলতেন সামাজিক একটা যোগাযোগ মাধ্যম থাকলে সবাই ব্যবহার করত তখন তিনি আপনাকে পাগল ডাকত কিন্তু এখন যদি বলেন আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন না তাহলে আপনাকে পাগল ডাকবে। অর্থাৎ আজকে আপনি কোন ভিন্নধর্মী আইডিয়া কারো কাছে বললে আপনাকে পাগল ডাকবে কিন্তু ৪-৫ বছর পর সেই আইডিয়া অন্যকেউ সফল করবে এবং আপনি তা ব্যবহার করবেন আর ব্যবহার না করলে আপনি হবেন পাগল।
এমন অনেকেই যারা ঠিক মত তিন বেলা খেতে পারেন নাই, খুব বেশী পড়াশুনা করতে পারেননি কিন্তু জীবনে স্বপ্ন লালন করতে ভুল করেন নাই এমন উদাহরন আমাদের সমাজেও কম নয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। কিন্তু সেই স্বপ্ন কি শুধু দেখলেই হবে? স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে লেগে পড়ে কাজ করতে হবে। কাজকে ভালবাসতে হবে। ব্যর্থ হলেও থেমে না থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করতে হবে।
“ওটা স্বপ্ন নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন তা-ই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।”- এ পি জে আব্দুল কালাম 
সফলতা তো আমরা সবাই পেতে চাই। কিন্তু সফলতা বলতে জীবনের কোন পর্যায়কে বুঝাবেন আপনি? আপনি কিসে নিজেকে সফল মনে করবেন? বেশীরভাগ মানুষই বিশাল পরিমান অর্থবিত্ত আর সম্মানের অধিকারী হওয়াকে সফলতা মনে করেন। কিন্তু আসলে বিষয়টি কি সে রকম কিছু?
সফলতা একটা যাত্রা যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। সফলতা মানুষের জীবনে বার বার আসে। প্রথম যেদিন হাঁটতে শিখেছিলেন সেদিন আপনি সফল হয়েছিলেন, প্রথম যেদিন সাইকেল চালাতে শিখেছিলেন সেদিন সফল হয়েছিলেন, যেদিন সাঁতার কাটতে পেরেছিলেন সেদিন সফল হয়েছিলেন, যেদিন পড়াশুনা করে প্রথম সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন সেদিন সফল হয়েছিলেন, এভাবে প্রতিটা কাজের যেদিন সুখময় শুরু করতে পেরেছেন সেদিনই আপনি সফল হয়েছেন। তাহলে সফলতা সফলতা করে মাথা ঠুকার কি কারন?
এভাবে যদি হিসেব করেন তাহলে আপনার জীবনে হাতে গোনা কয়েকটি বিফলতা ছাড়া দেখবেন সফলতার পরিমানই বেশী। সত্যিকার অর্থে সফলতা হল আপনার জীবনের সেই সুখকর মুহুর্তগুলো যখন আপনি নতুন কিছু করতে পেরেছিলেন। আকাশের সীমানা আর সমুদ্রের বিশালতা যেমন পরিমাপ করা সম্ভব নয় ঠিক তেমনি আপনিও নিজেকে জীবনের কোন একটা পর্যায়ে এসে বলতে পারবেন না আমি সফল। তাই সফলতার যাত্রায় আপনি যতটা অর্জন দিয়ে সাজিয়ে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেন ঠিক ততটাই সফল হবেন আপনি।
বাংলা অসম্ভব কথাটির ইংরেজী ইমপসিবল। এই ইমপসিবল শব্দটি বলে আমি পসিবল। একটু বুঝিয়ে বলি ইমপসিবল শব্দের প্রথম দুটি অক্ষর আলাদা করে উচ্চারণ করুন দেখুন তো আই এম পসিবল হয় কিনা। যদি তাই হয় তাহলে আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে আপনার দ্বারা যে কোন কাজ করা সম্ভব। কারন ইমপসিবল নিজেই বলছে আই এম পসিবল। আমি সম্ভব। তাহলে আপনি কেন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারছেন না।
আপনাকে থাকতে হবে পজেটিভ। মনে রাখতে হবে আপনি আত্মপ্রত্যয়ী মানুষগুলোর একজন সেই সাথে  পথপ্রদর্শকও। আজ আপনি যে পথে সফলতা ছিনিয়ে আনবেন আপনার সেই পথ ধরেই আগামীতে চলবে অনেকেই। সুতরাং ব্যর্থতা আসুক হাজার কি যায় আসে সফলতা তার পিছু পিছু আসে…।
আমাদের অনেকের ধ্যান ধারণা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কিংবা ব্যাংকার এ পেশাগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সফলতা। কিন্তু এ পেশার বাইরে যারা কাজ করছেন তারা কি?
ছোট বেলা থেকেই আপনার মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এ সকল পেশায় সম্মান অর্থ দুটোই আছে। আপনার ভেতরের ঘুমন্ত প্রতিভাকে গলাটিপে হত্যা করা সেই সময়েই। তাহলে আপনি কিভাবে উদ্যোক্তা হবেন?
বেরিয়ে আসুন বৃত্তের বাইরে যদি উদ্যোক্তা হতে চান। আপনার মেধা আর সাহস নিয়ে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে শিখুন। আমাদের অনেকের মনে আরও একটা অন্ধ বিশ্বাস জমে গেছে বা জন্মানো হয়েছে সেই বহু আগে থেকেই। যারা যে বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করেছেন তারা সেই সেই সেক্টর নিয়ে কাজ করবেন। 
যারা ব্যবসায় শাখায় পড়াশুনা করেছেন শুধুমাত্র তারাই উদ্যোক্তা হবেন। আর যে ছেলে বা মেয়েটি মানবিক শাখায় পড়াশুনা করেছে সে তো সর্বোচ্চ গাধা। বছর বছর ফেল করেছে। জগতের সবচেয়ে খারাপ এ জায়গার শিক্ষার্থীদের মনে করা হয়। কিন্তু কেন এ ধারনা?
ক্লাশের সবচেয়ে খারাপ ছাত্র মার্ক জাকারবার্গ যার মাথা থেকে আসা আইডিয়া সারা বিশ্বের মানুষকে এক জায়গাতে এনেছে। সাথে তার আয় এখন যে পর্যায়ে তাতে সারা বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনী ব্যাক্তির একজন সে।
আইনষ্টাইন যে কিনা নিজের বাড়ির নাম ঠিকানা মনে রাখতে পারতেন না সেই কিনা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রেখে গেছেন সর্বোচ্চ অবদান।
আমাদের দেশের সফল ব্যবসায়ীদের অতীতের দিকে যদি তাকাই তাহলে তাদের অনেকেই শুধুমাত্র নিজের প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন।
সিদ্ধান্ত এখন আপনার কাছে…. আপনার নির্দেশকদের চাপিয়ে দেওয়া বোঝা বয়ে বেড়াবেন নাকি আপনি সেই গাধা ছাত্র হয়ে থাকার কলঙ্ক মুছবেন?
আপনার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গী, অদম্য ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে সাহসী উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম, সততা, আর ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকার মানসিকতা তৈরী করতে পারলেই হয়ে উঠতে পারবেন একজন সফল উদ্যোক্তা।
আপনি নতুনত্বের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সাহসী ভুমিকায় থাকুন। আপনার নতুন কোন আইডিয়া বদলে দিতে পারে শুধু আপনার জীবন নয় একটা জাতির জীবনধারা পর্যন্ত। পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে চলতে শিখুন। কারন পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পরিবর্তনের ধারা সমাজ ও সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। আর এই সমৃদ্ধ ধারায় নিজেকে সংযুক্ত করে আপনি হয়ে উঠুন আগামীর উদ্যোক্তা।
আমার প্রিয় একজন গুণী এবং সফল বাক্তির উক্তি ‘চাকরি খুঁজবো না চাকরি দিব।‘
এই উক্তিটি আমার কাছে অনুপ্রেরনীয়  এবং প্রিয়। কিন্তু তার দ্বিতীয় আরেকটি উক্তি ছিল  ‘চাকরি হল ডিজিটাল দাসত্ব’ । আমাদের দেশের চাকরি পাওয়া এক প্রকার সোনার হরিণের মত কারণ আমাদের দেশের জনসংখ্যা অনুসারে চাকরি্র বাজার বা প্রতিষ্ঠান খুবই কম। বেসরকারি উদ্যোগ বা নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে না আসলে কোন সরকারের পক্ষেই সম্ভব না বেকার সমস্যা দূর করা। আর একটা দেশের জন্য সবচাইতে বড় সমস্যা হল বেকারত্ব। বর্তমান শিক্ষিত তরুণদের লেখাপড়া করার একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল ভাল একটা চাকরি করা,কারণ আমাদেরকে ছোট বেলা থেকেই গড়ে তোলা হয়েছে একটা ভাল চাকরি পাওয়ার জন্য। আর তাই আমরা পড়ালেখা শেষে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছি চাকরির জন্য,এই প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগাচ্ছেন সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা। মানে এই অত্যধিক বেকারত্বের সুযোগটাকে বর্তমান ব্যবসায়ীরা কাজে লাগিয়ে চাকরিজীবীদের দাসের মত ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ চাকরিজীবীদেরকে বেতন নামের সামান্য অর্থ দেওয়ার বিনিময়ে তাদের মূল্যবোধও কিনে নিচ্ছেন যার কারণে চাকরিজীবীরা একপ্রকার দাসের মতই ব্যবহার হচ্ছেন। আর উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পরেও এই দাসের মত ব্যবহার হওয়াকে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। যেহেতু আমি চাকরি করব না তাহলে আমাকে উদ্যোক্তাই হতে হবে আর উদ্যোক্তা হওয়া মানে কাউকে না কাউকে চাকরি দিতে হবে,আমি বা আমরা উদ্যোক্তা হলাম কি অন্যদেরকে দাস বানানোর জন্য? অবশ্যই না। আমরা চাকরি দিব ঠিকই কিন্তু দাসত্ব নয় –এই উক্তিকে কেন্দ্র করেই আমার বা আমাদের এগিয়ে চলা উচিত ।কিন্তু কিভাবে? বর্তমান তরুণদের হাতেই এদেশের ভবিষ্যত । তাই আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে,উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে ফলে বেকার সমস্যা লাঘব হয়ে দেশের উন্নয়ন তরান্বিত হবে। বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি হলেও সঠিক প্লাটফ্রমের অভাবে ঝরে যাচ্ছেন অনেকেই। এই ঝরে যাওয়া দেখে বাংলাদেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য একটা প্লাটফ্রম তৈরি করা হয়েছে যার নাম “ চাঁদমামা” ।মূলত অনেক গুলো ভিন্ন ও বাস্তবধর্মী আইডিয়ার সমন্বিত নাম হল চাঁদমামা। এই আইডিয়াকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সারা দেশ থেকে ১ লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা নিবে এবং তাদেরকে বিনিয়োগ ছাড়া মালিকানা দিচ্ছে চাঁদমামা। এতক্ষণ বলা হয়েছিল উদ্যোক্তা হতে মুলধন লাগে না,লাগে বুদ্ধি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সেই কথার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল চাঁদমামা।  
এবার আসা যাক আমার জীবনের কিছু কথায়, ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ছাত্র ছিলাম,তাই আমার বাবার ইচ্ছে ছিল আমি ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হব। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে আমার ইচ্ছার পরিবর্তন হতে লাগলো। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখার ইচ্ছে আমাকে আর ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার হতে দিলো না। এই কারণে বাবা আমার ওপর অনেকদিন রেগে ছিলেন ।প্রাইভেট মেডিক্যাল এ ভর্তির সুযোগ থাকা স্বত্বেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম বাবার অনিচ্ছায়। যদিও চাকরি পছন্দ করি না তারপরও উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছেতেই পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ শেখার জন্য পার্ট টাইম চাকরি খুঁজে বের করলাম কিন্তু পরিবারের কাউকে চাকরীর কথা জানতে দেই নাই ।চাকরি করলাম কিছুদিন তারপর ছোট ছোট কিছু ব্যবসা করার উদ্যোগ নিলাম সাথে নিলাম কিছু বন্ধু। এই ছোট ছোট উদ্যোগ গুলো প্রথম দিকে ভাল ফলাফল না পেলেও লেগে ছিলাম আমি সঙ্গে ছিল বুকভরা সপ্ন,নিজের প্রতি বিশ্বাস,অদম্য পরিশ্রম ও ধৈর্য।ফলে উদ্যোগগুলো পরবর্তীতে পরিপক্কতা লাভ করে। ক্লাসে নিজের গাড়ি নিয়ে অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষা দিতে যাওয়া একমাত্র ছাত্র ছিলাম আমি। তখন থেকে আজ অবধি আমি নিজেকে ব্যবসায়ীর চাইতেও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করি। এসব কথা গুলো বলার কারণ একটাই আর তা হল ডিজিটাল দাসত্বকে আমি পছন্দ করি না। চাকরি মানেই নিজের জীবনটা অন্যের হাতে তোলে দেওয়া, ৯-৫ টা চাকরি করে নিজের জীবনকে নির্দিষ্ট কিছু দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষপাতি আমি নই ।নিজের মেধা,শ্রম কাজে লাগিয়ে বেতনের চাইতে কয়েক গুণ বেশি আয় মালিক কে করে দিলেই আমরা সামান্য কিছু বেতন হিসেবে পায়। কিন্তু নিজের মেধা এবং শ্রম দিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ গুলো বাস্তবায়ন করলেই আমরা নিজেদের সফল হিসেবে দেখতে পারবো ফলে আমরা নিজেরাই অন্যকে চাকরি দিতে পারব। এতে দেশে তরুণ উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে এবং বেকার সমস্যার সমাধান হবে। একবার আমার ব্যবসায় সামান্য লোকসান হয় তখন আমার আব্বু বলেছিলেন,তোমাকে বলেছিলাম ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে এখন কি লাভ হল ? উত্তরে আমি বলেছিলাম আব্বু পরিকল্পনা করছি  একটা হাসপাতাল করব যেখানে অনেক ডাক্তারকে চাকরি দিব (ডাক্তারদের ছোট করে এটা বলা হয় নাই)। আমরা আমাদের স্বতন্ত্র আইডিয়া গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেই ভাল কিছু করতে পারব। কারণ প্রতিটি মানুষের নিজস্ব কিছু স্বকীয়তা/ আইডিয়া থাকে যারা এই আইডিয়া গুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে তারাই উদ্যোক্তা।অনেকেই ব্যবসায় পুঁজির কথা বলবেন,তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি এই পৃথিবীতে আজ যারা সফল তাদের কারো কাছেই পর্যাপ্ত পুঁজি ছিল না। আপনার উদ্যোগ, শ্রম, সততা, একাগ্রচিত্ততা ঠিক থাকলেই আপনি সফল হতে পারবেন।কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে।
প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা।যারা আপনার চাইতে এগিয়ে, তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী। এটা মেনে নিন। ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না। তা-ই যদি হত, তাহলে রিক্সাওয়ালা হতেন সবচাইতে ধনী। শুধু পরিশ্রম করা নয়, এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা।শুধু কাজ করলে হবে না,কাজকে ভালবাসতে হবে।যে কাজে আপনার ভালবাসা থাকবে না বা যে কাজ অন্তর থেকে করতে পারবেন না সেই কাজে কক্ষনো আপনি সফল হতে পারবেন না। আমি দেখেছি দুই বন্ধু একই পোস্ট এ চাকরি শুরু করার দুই বছর পর এক বন্ধু ম্যানেজার আর ২য়জন একই পোস্ট এ থেকে গেছেন। কারণ ২য়জন চাকরি টাকে বোঝা মনে করতেন আর ১ম জন কাজটাকে মন থেকে ভালবেসে করতেন । আপনাকে কাজে সময় দিতে হবে অনেক বেশী,সবার দিনই তো ২৪ ঘণ্টায়। আপনি বাড়তি কী করলেন, সেটাই ঠিক করে দেবে, আপনি বাড়তি কী পাবেন। আপনি ভিন্নকিছু করতে না পারলে আপনি ভিন্নকিছু পাবেন না। বিল গেটস রাতারাতি বিল গেটস হননি। শুধু ভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জবস কিংবা জুকারবার্গ হওয়া যায় না। বড় মানুষ হতে হলে প্রস্তুতিও বড় থাকতে হয় । নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন। শুধু রুটির দোকানে চাকরিতেই নজরুল হয় না। কিংবা স্কুলকলেজে না গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না।স্টুডেন্টলাইফে কে কী বলল, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। মানে হাসপাতালের মালিক হতে হলে ডাক্তার হতে হবে এমন কোন কথা নাই। যাকে নিয়ে কেউ কোনদিন স্বপ্ন দেখেনি, সে এখন হাজার হাজার মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ক্যারিয়ার বা লেখাপড়া নিয়ে যার তেমন কোন ভাবনা ছিল না, সে সবার আগে পিএইচডি করতে আমেরিকায় গেছে। সব পরীক্ষায় ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন, কী পারেন না, এটা অন্যকাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না। পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? কিংবা ন্যাশনাল ভার্সিটিতে? সবাই বলছে, আপনার লাইফটা শেষ? আমি বলি, আরে! আপনার লাইফ তো এখনো শুরুই হয়নি। আপনি কতদূর যাবেন, এটা ঠিক করে দেয়ার অন্যরা কে? লাইফটা কি ওদের নাকি? আমাদের দেশের মানুষদের সফল হওয়ার জন্য ২টা বাধা অতিক্রম করতে হয়,প্রথম এবং ছোট বাঁধা হলাম আমরা নিজেরা কারণ ছোট বেলা থেকেই “না” শুনতে শুনতে আমাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাস খুবই কম ফলে কোন কাজ করার আগেই আমরা মেনে নিই যে এই কাজ আমার দ্বারা হবে না,আমাদের এই বাঁধা অতিক্রম করারপর ২য় এবং সবচাইতে বড় বাঁধা হল আমাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও আশেপাশের পরিচিত ও প্রিয়জন। আমরা কোন কাজ করার পরিকল্পনা করলেই কেউ না কেউ এসে বলবে এই কাজ তোমাকে দিয়ে হবে না,তুমি এই কাজ পারবে না,তোমার মধ্যে এই কাজ করার গুণ নাই।এই বাঁধা অতিক্রম করা খুবই কঠিন,কিন্তু আপনি যদি জিজ্ঞাস করেন কেন আমি পারব না? তখন উনাদের কাছে কোন উত্তর পাবেন না যদিও কেউ উত্তর দেয় দেখবেন কত হাস্যকর সেই উত্তর। যেমন – তুমি পারবা না কারণ অমুকের ছেলে তমুক পারে নাই।আরে ভাই একজন পারে নাই বলে যে আপনি পারবেন না এমন কোন কথা আছে নাকি? 
ছোট বেলা থেকেই পরিবার এবং শিক্ষক সবার একটাই কথা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে কিন্তু কেন? পৃথিবীর সফল ব্যাক্তি সবাই কি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার? কিংবা ডাক্তারি পাস করে কেন ডাক্তারিই করতে হবে? আমার পরিচিত এক ডাক্তার ফটোগ্রাফি করে মাসে আয় করে ৭-৮ লাখ টাকা। আপনার ফটোগ্রাফি ভাল লাগে কিন্তু যদি ডাক্তারি পড়েন তাহলে আপনি কক্ষনো সফল ডাক্তার হতে পারবেন না। যেখানেই পড়াশোনা করেন না কেন, আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের উপর। আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট, তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে দেখুন। যে গাড়িটা করে ভার্সিটিতে আসেন, ঘোরাঘুরি করেন, সেটি কি আপনার নিজের টাকায় কেনা? ওটা নিয়ে ভাব দেখান কোন আক্কেলে? একদিন আপনাকে বাস্তবতাই নামতে হবে। তখন আপনাকে যা যা করতে হবে, সেসব কাজ এখনই করা শুরু করুন। জীবনে বড় হতে হলে কিছু ভাল বই পড়তে হয়, কিছু ভাল মুভি দেখতে হয়, কিছু ভাল মিউজিক শুনতে হয়, কিছু ভাল জায়গায় ঘুরতে হয়, কিছু ভাল মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কিছু ভাল কাজ করতে হয়। একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তখন দেখবেন, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে। স্কিল ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয়। এসব একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না।
আর আমার জীবনের এইসব বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটা বাস্তবধর্মী আইডিয়া তৈরি করা হল যা বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ এবং সফলতার পরিমাণ অসীম। উদ্যোক্তা মনোভাবের যেকোন কেউ আইডিয়া টা পড়লেই বুঝতে পারবেন কত সহজেই অনেক বড় কিছু অর্জন করা যায়। অনেকের মনে ইতিমধ্যে প্রশ্ন আসতে পারে আমার আইডিয়া যদি বাস্তবায়ন করা সহজই হয় তাহলে আপনাদেরকে এতকথা বলার দরকার কি? হ্যাঁ,আমার আইডিয়া টার সফলতা নির্ভর করছে ১ লক্ষ উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছুক তরুণের উপর তাই আপনিও হতে পারেন বিশ্বের সবচাইতে বড় প্লাটফ্রমের অংশীদার এবং সফল একজন উদ্যোক্তা।  
চাঁদমামা সফল হওয়ার মুল চাবিকাঠি কি??? 
মনে রাখবেন,ব্যবসা করতে অনেকেই টাকা বিনিয়োগ করে এবং অনেকেই আইডিয়া। 
চাঁদমামা সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হল বাস্তবধর্মী আইডিয়া এবং সাথে কোম্পানীর মালিক হিসেবে ১ লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা। মুলত ব্যবসা বলতে আমরা বুঝি পণ্য উৎপাদন করে সেই পণ্য বাজারজাত করণ করা এক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদনে যা খরচ হয় তার চাইতেও বেশী খরচ করতে হয় প্রচার-প্রচারণায় কারণ প্রচার না করলে ভোক্তা পণ্য সম্পর্কে জানবে না এবং চাহিদা সৃষ্টি হবে না ফলে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় অযোগ্য হয়ে ব্যবসায় লোকসান হবে। অন্যদিকে পণ্য উৎপাদনকারী থেকে কম মূল্যে পণ্য কিনে তা বেশী মূল্যে বাজারজাত করণ করাকেও ব্যবসা বলা হয়। এক্ষেত্রেও পন্য কিনে প্রচার-প্রচারণায় টাকা বিনিয়োগ করে বাজারজাত করতে হয়। ব্যবসার উভয় ধরণেই সিংহভাগ বিনিয়োগ হয় প্রচার-প্রচারণায়। আবার বর্তমান সময়ে ব্যবসাতে প্রতিযোগিতা অনেক বেশী তাই প্রচার-প্রচারণায় খরচের মাত্রা বেড়ে যায়। অনেক সময় কভারেজের অভাবে ও ভোক্তাদের চাহিদা না বুঝার কারণে যেখানে উৎপাদিত পণ্যের ভোক্তা বেশী সেখানে প্রচারণা কম ও যেখানে ঐ পণ্যের ভোক্তা কম সেখানে প্রচারণা বেশী করা হয় ফলে খরচ বেড়ে লোকসান হয়। এভাবে ভুল মার্কেটিং এর কারণে অনেক বড় কোম্পানীও ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এইসব আলোচনায় আমরা বুঝলাম ব্যবসাতে সবচাইতে বেশী খরচ হয় প্রচার-প্রচারণায় বা মার্কেটিং এ এবং ব্যবসার সফলতা নির্ভর করে সঠিক মার্কেটিং এর উপর। আমাদের চাঁদমামা আইডিয়াতে ১ লক্ষ মালিক এবং সম্পুর্ন দেশ কভারেজ এই দুইটা আইডিয়া বুঝতে পারলেই আপনি বলে দিতে পারবেন চাঁদমামার সফলতা কি পরিমাণ হতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে ১- ২ হাজার মানুষের বসবাস। প্রতি ১-২ হাজার মানুষের জন্য চাঁদমামার প্রচারক হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন ঐ গ্রামেরই একজন উদ্যোক্তা। যেহেতু ঐ উদ্যোক্তা একই গ্রামের ছেলে তাই গ্রামের প্রায় ৭০% মানুষ তাকে চিনবে এবং শুধুমাত্র ১-২ হাজার ভোক্তার কাছে প্রচারণা করতে হবে সেই হিসেবে সারা বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে ১জন করে সর্বমোট ১ লক্ষ মালিকের প্রচারণায় ১৭ কোটি মানুষকে চাঁদমামার সেবা বা পন্য সম্পর্কে জানাতে তেমন সময়ের দরকার হবে না এবং কোন ধরণের মুলধন প্রয়োজন নাই। যেখানে অন্যরা হাজার কোটি টাকা খরচ করে ২-৩ বছর সময়ের পর দেশের ২০% ভোক্তা তৈরি করে শত কোটি টাকা আয় করছে সেখানে চাঁদমামা দেশের প্রতিটা গ্রামেই ১ জন করে মোট  ১ লক্ষ উদ্যোক্তা দিয়ে ৫-৬ মাসের মধ্যে ৮০% ভোক্তা তৈরি করাটা অযৌক্তিক কিছু না। সেই হিসেবে অন্যদের শত কোটি টাকা লাভ হলে চাঁদমামার কত হবে???  
যার মধ্যে নুন্যতম উদ্যোক্তা মনোভাব থাকবে সেই বুঝতে পারবে উপরোক্ত কথার আসল গুরুত্ব।
বিনিয়োগ ছাড়া উদ্যোক্তা হওয়ার সফল আইডিয়ার নাম চাঁদমামা তাই উদ্যোক্তার স্বপ্ন চাঁদমামা বলা হয়েছে।
কি কি লক্ষণে বুঝতে পারবেন আপনি একজন সহজাত উদ্যোক্তা?
ব্যবসা ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের কিছু সহজাত প্রবণতা থাকে। যাদের মধ্যে এসব প্রবণতা নেই, অনেক চেষ্টা করেও তারা এ সবগুলো গুণ অর্জন করতে পারেন না।
ব্যবসা শুরু করা বহু মানুষই বলেন যে, তাদের অনেক আগেই ব্যবসা শুরু করা উচিত ছিল। কিন্তু তাদের মাঝে থাকা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতার বিষয়টি তারা ধরতে পারেননি। আপনার মাঝে যদি এ লক্ষণগুলো থাকে তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শুরু করতে পারেন আপনার নিজের কোনো ব্যবসা।
এ লেখায় প্রকাশিত গুণগুলো বিবেচনা করে নির্ণয় করুন, আপনার মাঝে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু।
১.আপনার চ্যালেঞ্জ পছন্দ 
কিছু মানুষের কাছে চ্যালেঞ্জ অপছন্দ হলেও আপনার কাছে চ্যালেঞ্জ খুবই পছন্দের একটি বিষয়। আপনার নতুন চ্যালেঞ্জ প্রয়োজন হয় ঠিকভাবে চলার জন্য। আর নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আপনার আগ্রহের শেষ নেই। আপনার এ চ্যালেঞ্জিং মানসিকতার জন্য কর্মক্ষেত্রে বসরা আপনার সঙ্গে তাল মেলাতে অসন্তুষ্টি বোধ করেন। আপনার এ চ্যালেঞ্জিং মানসিকতাই বলে দেবে আপনার উদ্যোক্তা হওয়ার যোগ্যতার কথা।
২. আপনি একজন বিদ্রোহী
আপনি নিয়ম ভাঙতে পছন্দ করেন এবং বিভিন্ন বিষয় ভিন্নভাবে করতে চান। অন্যরা কখনও যে পথে কোনো কাজ করেনি, আপনি সেই পথে কাজ করতে চান। ভেতরের নিয়মগুলো আপনি অপছন্দ করেন। আপনার ক্যারিয়ার জীবনে কখনও এমন ভিন্ন মানসিকতার জন্য সমালোচনার শিকার হতে হয়। কিন্তু আপনি কাজ ঠিকই শেষ করেন, তবে একটু ভিন্নভাবে।
৩. সব সময় সংশোধন করেন
আপনি সব সময় বহু বিষয় সংশোধন করতে ও মান উন্নত করতে পছন্দ করেন। আপনার সঙ্গী ও বন্ধু-বান্ধবরা আপনার এ সংশোধন অভ্যাস দেখে বিরক্ত। তার পরেও নতুন আইডিয়া এনে নতুন বিষয় সংযোজন ও সংশোধনের মাধ্যমে উন্নত করতে আপনার আগ্রহের শেষ নেই।
৪. আপনি কর্তৃপক্ষ অপছন্দ করেন
ছোটবেলা থেকেই আপনার পক্ষে পিতা-মাতার দেওয়া নানা নিয়ম অপছন্দ? একই কারণে স্কুলের শিক্ষকরা কি অপছন্দ করতেন আপনাকে? আপনার অফিসের বস কি এখনও আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যায় পড়েন? কর্তৃপক্ষের প্রতি আপনার এই বিরুপ দৃষ্টি আপনার উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য একটি ভালো লক্ষণ। যার অর্থ অন্যদের সহায়তা, পরামর্শ ও আদেশ-নিষেধের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চলতেই আপনি পছন্দ করেন।
৫. আপনি সম্পর্ক গড়ে তোলেন
আপনি বহু মানুষকে জানেন। যেখানেই আপনি যান, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ যোগাযোগ আপনি সব সময় রক্ষা করেন। তাদের সঙ্গে প্রায়ই আপনি দেখা করেন এবং ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করেন। আপনার যদি আজকে চাকরিটি চলে যায়, কালকেই আপনি আরেকটি চাকরি জোগাড় করতে পারবেন। এ লক্ষণ থাকলে বুঝবেন, আপনার মাঝে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার স্বভাব রয়েছে, যা একজন ভালো উদ্যোক্তা হওয়ার পূর্বশর্ত।
৬. আপনি ৯টা-৫টা নিয়ে মাথা ঘামান না
স্বাভাবিক অফিস টাইম ৯টা-৫টা সাধারণ মানুষ মেনে চলে। কিন্তু আপনি একজন উদ্যোক্তা হলে এ সময়সূচি আপনার কোনো আগ্রহ তৈরি করে না। আপনি কোনো প্রকল্পে থাকলে এ সময়ের বাইরে বহু সময় ধরে কাজ করেন। আপনার বসের কারণে নয়, আপনি নিজের উদ্যোগেই এ সময়সূচি বাদ দেন। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কাজটি আপনার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
৭. চাকরির নিরাপত্তা আপনি ভিন্নভাবে দেখেন
অধিকাংশ মানুষ যেখানে কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত কোনো বসের অধীনে কাজ করাকেই চাকরির নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে, সেখানে আপনি বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখেন। আপনার নিয়ন্ত্রণ যতদিন আছে, ততদিন আপনি চাকরির নিরাপত্তা আছে বলেই মনে করেন। আপনি চাকরির নিরাপত্তামূলক বিষয়টিতে ততটা গুরুত্ব না দিয়ে সবকিছুর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই বেশি পছন্দ করেন।বিনিয়োগ ছাড়া উদ্যোক্তা হওয়ার সফল আইডিয়ার নাম চাঁদমামা। তাই “উদ্যোক্তার স্বপ্ন চাঁদমামা”।
          চাঁদমামার আইডিওলোজি/আইডিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
বাস্তবধর্মী আইডিয়া এবং উদ্যোক্তা এই দুইটা বিষয়ের উপর বর্তমান পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।
এই কথাটাকে ভিত্তি করে আজ থেকে ২ বছর আগে যাত্রা শুরু হয় যুগ উপযোগী একটা নতুন আইডিয়ার।এই আইডিয়ার নাম দেওয়া হয় “চাঁদমামা”।
আমার সম্পর্কে কিছু কথা
নামঃ মোঃ আব্দুর রশিদ সোহাগ  (চাঁদমামা আইডিয়ার উদ্ভাবক এবং প্রতিষ্ঠাতা সিইও)
জন্মঃ-কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় হারবাং ইউনিয়ন এর এক  সম্ব্রান্ত ও মুসলিম  পরিবারে আমার জন্ম হয় ১০ই নভেম্বর,১৯৮৬ইং সালে।
১৯৯২ইং সালে শিক্ষা জীবন শুরু করি চট্টগ্রাম শহরে। প্রথমে সরকারী প্রাইমারী স্কুল, কেজি স্কুল এবং পরে নগরীর স্বনামধন্য নাসিরাবাদ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করি ২০০২ইং সালে,এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স (উদ্ভিদবিজ্ঞান) সম্পন্ন করি। ছোট বেলা থেকেই যেকোন কাজ ভিন্নভাবে করতে চেষ্টা করতাম। জীবনে সব সময় দুটি জিনিস মেনে চলেছি। বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে    জানতে হয়,অবশ্য সব স্বপ্নই বাস্তবায়িত হবে এমন নয়। যদি শুধু মাত্র ৬০-৭০% স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়,তাহলেই মানুষের জীবন বদলে যায়। দ্বিতীয় হল ব্যবসা করতে মূলধন লাগে না—লাগে স্বপ্ন ও সাহস। আমিই এর বড় প্রমাণ। যখন পড়ালেখার পাশাপাশি  ব্যবসা শুরু করি তখন সাহস, সততা আর পরিশ্রম করার মানসিকতা ছাড়া আর কোন মূলধন ছিল না আমার। আজ “চাঁদমামা” প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি কেবল স্বপ্ন দেখার অভ্যাসের কারণে। আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের গল্প আর দশজনের মতোই সাধারণ। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ফলে ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল নিজে কিছু করব, বড়লোক নয় সফল ব্যাক্তি হব।  আর তারই ধারাবাহিকতাই ২০১৪ইং  সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি থেকে আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ভিন্ন ও বাস্তবধর্মী আইডিয়াকে বিশ্লেষণ ও সংযোজন করে তরুণ উদ্যোক্তাদেরকে একটি প্লাটফ্রমে সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কভারেজ ও সংযুক্ত করার জন্য বর্তমান বিশ্বের যুগউপযোগী ও বাস্তবধর্মী আইডিয়া “চাঁদমামা” উদ্ভাবন করি ।
কার্যনির্বাহী সদস্যঃ- আমার উদ্ভাবিত আইডিয়া চাঁদমামাকে বাস্তবায়নের  জন্য কয়েকজন উদ্যমী ও উদ্যোক্তা মনোভাবের বন্ধুকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে সাথে নিই । আমার অন্যতম ও প্রধান সহযোগী হিসেবে  মোঃ সোহেল আরমান,(সিএফও) এবং ফজলুর রহমান রবি,(সিওও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ভালবাসা, দৃঢ় মনোবল ও কর্মদক্ষতা আমাকে বিমোহিত করেছে এবং চাঁদমামাকে পরিপুর্নতা দান করেছে। এছাড়াও আরো ৮জন পরিচালক চাঁদমামাকে আপনাদের কাছে পৌছে দিতে এবং চাঁদমামাকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
লক্ষ্যঃ এক লক্ষ তরুণ ছাত্র/ছাত্রী কে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশকে কভারেজ ও সংযুক্ত করা।
উদ্দেশ্যঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে তরুণদের সাথে নিয়ে গণমাধ্যম,ইকমার্স, শিল্পখাত ও সামাজিক কাজে  নতুন মাত্রা যোগ করে উদ্যোক্তা নির্ভর বাংলাদেশ গড়া।


চাঁদমামার বৈশিষ্ট্য সমূহ
চাঁদ মামার সকল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেয়া হল।
* বাংলাদেশের ১ লক্ষ তরুণ ছাত্র/ছাত্রীদের বিনিয়োগ ছাড়া উদ্যোক্তা হওয়ার একমাত্র প্লাটফ্রম চাঁদমামা।
* তরুণ উদ্যোক্তাদেরকে একবিন্দুতে সংযোজনের জন্য পাবলিক কোম্পানীতে মালিকানা প্রদান।
* তরুণ উদ্যোক্তাদের একবিন্দুতে সংযোজন এর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশকে কভারেজ করা।
* উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বের সবচাইতে বড় প্লাটফ্রম চাঁদমামা  ।
* বাংলাদেশের ১৭ কোটি (অফলাইন সহ)  মানুষকে অনলাইনের সেবা প্রদানের আওতাভুক্ত করার আইডিয়ার নাম চাঁদমামা।
* একটি গ্রাম,একটি ওয়েবসাইট,একজন উদ্যোক্তা এই আইডিয়ার নাম চাঁদমামা।
* চাকরি নিব না,চাকরি দিব।কিন্তু চাকরি দিব, দাসত্ব নয় এরই নাম চাঁদমামা।
* বাংলাদেশের সবচাইতে বৃহৎ তথ্য ভাণ্ডারের নাম চাঁদমামা।
* বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি খবরের বা অপ্রকাশিত থাকবে না কোন খবরের অপর নাম চাঁদমামা।
* বাংলাদেশের সব চেয়ে বৃহৎ সামাজিক কার্যক্রমের নাম চাঁদমামা।
* বর্তমান সরকারের  ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সবচেয়ে বড় অংশীদারের নাম চাঁদমামা।
* অরাজনৈতিক,সামাজিক,অর্থনৈতিক,অনলাইন ভিত্তিক,পরিবেশ রক্ষা এবং সচেতনতা মূলক কাজের একমাত্র  প্রতিষ্ঠানের নাম চাঁদমামা।
*** এছাড়াও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজন অনুযায়ী কোম্পানী বিভিন্ন ধরণের যুগুপযোগী প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করবে। 
বিশদ বিবরণ
বাংলাদেশে ৮৭১৯১ টি গ্রাম,৪৫৫০টি ইউনিয়ন,৪৮৯টি উপজেলা,৬৪ টি জেলা এবং ৮টি বিভাগ আছে।
প্রতিটি গ্রাম,ইউনিয়ন,উপজেলা,জেলা,বিভাগ থেকে একজন করে সর্বমোট ১ লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করবে চাঁদমামা। এছাড়াও প্রয়োজন অনুসারে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা থেকেও উদ্যোক্তা নেওয়া হবে। প্রতিটা স্তরে বা স্থানে একজন করে উদ্যোক্তা কাজ করার সুযোগ পাবেন।তাই সকলের জন্য যার যার অবস্থান বা সুযোগ অনেক বড় পাওয়া। মনে রাখবেন,ওয়ার্ড ভিত্তিক কোন উদ্যোক্তা নেওয়া হবে না,উক্ত ওয়ার্ডের মধ্যে যেই এলাকা বা মহল্লা গুলো বিদ্যমান সেগুলো থেকেই উদ্যোক্তা নিয়োগ পাবেন। 
কোম্পানি গঠনঃ
কোন বিনিয়োগ ছাড়াই ১ লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা হবেন চাঁদমামা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীর শেয়ার হোল্ডার বা মালিক ফলে সকল উদ্যোক্তার সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে চাঁদমামার সকল প্রজেক্ট অতিদ্রুত সাফল্যের স্বর্নশিখরে পৌছে যাবে। এবং চাঁদমামা পাবলিক লিমিটেডের সকল প্রজেক্টের আয় সকল উদ্যোক্তা বা মালিকগণ ভোগ করবেন।
চাঁদ মামা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিঃ বাংলাদেশের কোম্পানি আইনে ২ প্রকারের কোম্পানি দেখা যায়
১) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি
২) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে সর্বোচ্চ মালিক সংখ্যা থাকে ৪৯ জন।
অপর দিকে সর্বনিম্ন ৭ জন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আনলিমিটেড শেয়ার হোল্ডার বা মালিক নিয়ে যে কোম্পানি গঠন করা হয় তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলা হয়। চাঁদ মামা বাংলাদেশের প্রতি গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং বিভাগ থেকে সর্বমোট ১ লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা বাঁচাইয়ের মাধ্যমে সবাইকে কোন আর্থিক বিনিয়োগ ছাড়াই মালিকানা দিবে। যেহেতু চাঁদ মামা পাবলিক কোম্পানি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করবে তাই সবাইকে মালিকানা শেয়ার প্রদান করতে পারবে। আর্থিক বিনিয়োগ ছাড়া মালিকানা দেওয়ার কারণ হচ্ছে সকল উদ্যোক্তাগণ যেন সহজেই চাঁদ মামার সাথে সংযুক্ত হয়ে জীবনে সফল হতে পারে। চাঁদ মামাতে সকল উদ্যোক্তা একাধারে উদ্যোক্তা, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মালিক,প্রচারক,সেবা প্রদান কারী, উৎপাদক, ভোক্তা, সাংবাদিক,সামাজিক কাজের কর্মী ইত্যাদি। আর্থিক বিনিয়োগ করতে না হলেও উদ্যোক্তাদেরকে নিজের মেধা,শ্রম ও সময় বিনিয়োগের মাধ্যমে  কোম্পানির প্ল্যান ও দিক নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতে হবে। সকল উদ্যোক্তা নিজের ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন করার পর ৫ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ পাবেন। প্রতি জেলাতে প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট ও কোম্পানির মালিকানা সার্টিফিকেট পাবেন। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের জন্য সকল উদ্যোক্তার তথ্য, ছবি, আইডি কার্ড ইত্যাদি দিয়ে জয়েন ষ্টক কোম্পানির নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হয় এবং নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি ব্যাংক এ জমা দেওয়ার পর কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। উদ্যোক্তাগণ নিজ গ্রামের নামে ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশনের সময় নিজেদের ডকুমেন্ট গুলো প্রদান করলে সেইসব ডকুমেন্ট দিয়ে চাঁদমামা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে, তাই আমাদের সকলের উচিত দ্রুত ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা।
কোম্পানি হিসাব এবং শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানঃ
কোম্পানির যাবতীয় লেনদেন কোম্পানির নামে খোলা যৌথ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে করা হবে এবং অডিট ফার্মের মাধ্যমে আয় ব্যায় হিসাব করা হবে। কোম্পানি প্রতি জেলায় এজিএম এর মাধ্যমে শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বণ্টন করবে। মনে রাখবেন কোম্পানির যৌথ একাউন্টের লেনদেন কখনও নিয়ম বহির্ভুত করা যায় না তাই সকলের আয়ের ব্যাপারে সবাই নিশ্চিত থাকতে পারবেন।
গ্রাম ওয়েবসাইটঃ-
পৃথিবীতে এই প্রথম চাঁদমামা কোন দেশের গ্রাম ভিত্তিক ওয়েবসাইট প্রদান করছে। প্রতিটি গ্রামের নামে একটা করে সাব ডোমেইন ওয়েবসাইট তৈরি করে দিবে চাঁদমামা এবং উক্ত ওয়েবসাইটের এডমিন প্যানেল থাকবে গ্রাম উদ্যোক্তার কাছে। গ্রাম ওয়েবসাইটে ঐ গ্রামের তথ্যের কিছু ক্যাটেগরি দেওয়া আছে,গ্রাম উদ্যোক্তাগণ নিজ গ্রামের সকল প্রকার তথ্য দিয়ে গ্রাম ওয়েবসাইট সাজাবেন।পাশাপাশি গ্রাম ওয়েবসাইটের নিউজ কলাম এ গ্রামের প্রতিদিনের খবর গুলো পোস্ট করবেন গ্রাম উদ্যোক্তা। ফলে ঐ গ্রাম সম্পর্কে যেকোন ধরনের গুরুত্বপুর্ন তথ্য ও খবর খোঁজে পাবেন দেশবাসীসহ সারাবিশ্ব। নিজ গ্রামের নামে ওয়েবসাইট সারা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা একজন উদ্যোক্তার জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।এতে আমাদের পুরো  বাংলাদেশের একটা বিশাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে ফলে সাধারণ জনগণ,সমাজ,দেশ ও জাতি উপকৃত  হবে এবং বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাঁদমামা অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। যেহেতু প্রতিটি গ্রাম ওয়েবসাইট তথ্য,খবর ও সব ধরনের অনলাইন, অফলাইন সেবা ও পণ্য নির্ভর  ওয়েবসাইট হবে ঐ সাইটে গ্রাহক/ভিজিটর থাকবে আর তাই গ্রাম ওয়েবসাইটকে ভিত্তি করে বেশ কয়েক ধরনের আয় করতে পারবেন গ্রাম উদ্যোক্তা। বর্তমানযুগ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। তথ্য ছাড়া কোন কিছুই করা সম্ভব না।ফলে গ্রাম ওয়েবসাইট গুলোতে দেশী-বিদেশী অনেক ভিজিটর থাকবে তথ্যের জন্য। আর যে ওয়েবসাইট এ ভিজিটর থাকে সেই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। গ্রাম উদ্যোক্তাগনের জন্য প্রতিটা ওয়েবসাইট এ ৩০ টা করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ করা আছে। গ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ গ্রাম ওয়েবসাইট এ বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী হবেন, প্রতিটা বিজ্ঞাপনের জন্য গ্রাম উদ্যোক্তাগণ ৩০০টাকা মাসিক হারে সংগ্রহ করলে গ্রাম উদ্যোক্তার প্রতিমাসে আয় হবে ৯০০০টাকা। এছাড়াও আরও কয়েকরকম সেবা (এয়ার/বাস ই-টিকেটিং, ই-ট্যুরপ্যাকেজ, ই-গ্রামশপ, ই-মেডিকাল, ই-কুরিয়ার, ই-ফুড, ই-কারেন্সি, ই-সার্ভে, ই-এডুকেশন) গ্রামবাসীকে দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাম উদ্যোক্তা নিজের ওয়েবসাইট থেকে মাসে ৯০০০-১৫০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। এই আয় গ্রাম,ইউনিয়ন,উপজেলা,জেলা এবং বিভাগীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সম্পুর্ন স্বাধীন আয়। 
অর্থাৎ প্রতিজন উদ্যোক্তা ২ ধরনের আয় পাবেন যেমনঃ
 ১)নিজের ওয়েবসাইট থেকে আয়। নিজের গ্রাম,ইউনিয়ন,উপজেলা,জেলা ও বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে বিজ্ঞাপন/অ্যাড বাবদ ও চাঁদমামার প্রজেক্ট ভিত্তিক অন্যান্য সেবা প্রদানের মাধ্যমেও উদ্যোক্তারা স্বাধীন ভাবে আয় করতে পারবেন।মানে নিজের স্থানের নামে তৈরিকৃত ওয়েবসাইট থেকে যে আয় করবেন তা উদ্যোক্তাগণ নিজের স্বাধীন আয় হিসেবে ভোগ করবেন। 
২) কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার বা মালিক হিসেবে কোম্পানির সকল প্রজেক্টের আয়। অর্থাৎ কোম্পানির সকল ধরণের প্রজেক্ট থেকে যা লাভ হবে তা ১ লক্ষ উদ্যোক্তার মধ্যে শেয়ার পারসেন্টেজ অনুযায়ী বন্টন করে দেয়া হবে। প্রতিটা জেলায় এজিএম এর মাধ্যমে কোম্পানীর লভ্যাংশ বণ্টন করা হবে। 
চাঁদমামার প্রজেক্ট সমুহঃ 
১) চাঁদমামা তথ্যভাণ্ডার (চাঁদমামা ডট অর্গ)
২) মিডিয়া বা গণমাধ্যম (* অনলাইন নিউজ পোর্টাল- চাঁদমামা ডট নিউজ * দৈনিক পত্রিকা* রেডিও *টিভি চ্যানেল)
৩) মোবাইল মানি  (সি-ক্যাশ)
৪) ই-কমার্স সাইট (মার্কেটপ্লেস সাইট-বেচেদেন ডট কম,ই-ফুড,ই-মেডিকেল,ই-টিকেটিং,ই-শপ,ই-কৃষি, জব সাইট, সোশ্যাল মিডিয়া,সার্চইঞ্জিন,ই-ট্যুরিজমসহ আরো অনেক)
৫) অ্যাডভারটাইজিং ফার্ম(ই-অ্যাড ফার্ম) 
৬) চাঁদমামা ই-কুরিয়ার এবং আরও অনেক কিছু।
৭) পণ্য শিল্প গড়ে তোলা। 
৮) বাংলাদেশের সকল উদ্যোক্তাদেরকে সুযোগ প্রদান(ফান্ড রাইজ) করা মানে চাঁদমামা স্টার্টআপ হেল্পিং প্রোগ্রাম।
৯) সামাজিক কাজ সমূহ -(রক্তদিন ডট কম),পথশিশুদের পুনর্বাসন,বয়স্ক শিক্ষা,বন্যা দুর্গত ও শীতার্তদের  সহযোগিতা, গরীব মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা এবং সকল ধরনের সামাজিক কাজে চাঁদমামা অংশগ্রহণ করবে।
১০) পরিবেশ রক্ষার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের জলবায়ুর টেকসই উন্নয়নে চাঁদমামা ভূমিকা পালন করবে।পরিবেশ রক্ষায় সরকারী বা বেসরকারি সকল প্রকার কাজে চাঁদমামা সক্রিয় ভুমিকা পালন করবে। যেমনঃ বৃক্ষরোপণ অভিযান,বায়ূদূষণ রোধ,বৃক্ষনিধন রোধ অভিযান ইত্যাদি সকল প্রকার পরিবেশ উন্নয়ন মুলক কাজ। 
১১) জনসচেতনতা মূলক কাজ বা উদ্যোগ- কুসংস্কার,জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহামারী রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
প্রজেক্ট সমূহের বর্ননাঃ-
* চাঁদমামা তথ্য ভাণ্ডারঃ -বিশ্বে এই প্রথম কোন দেশের প্রতিটা গ্রামের সকল প্রকার তথ্য নিয়ে সর্ববৃহৎ তথ্যভাণ্ডার হবে চাঁদমামা (চাঁদমামা ডট অর্গ)। এককথায় তথ্য প্রযুক্তির উপর ভর করে বর্তমান পৃথিবী দাড়িয়ে আছে। তথ্য ছাড়া বর্তমান পৃথিবী অচল। মানুষের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটা কাজে তথ্য প্রয়োজন। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য থাকবে চাঁদমামা তথ্য ভাণ্ডারে ফলে মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে চাঁদমামা তথ্য ভান্ডার কাজ করবে। পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোতেও প্রতিটা গ্রামের এত বিশদভাবে বা এত বেশি পরিমাণের তথ্যের ভান্ডার নাই সেদিক থেকে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য চাঁদমামা তথ্য ভান্ডার একটা গর্ব করার মত প্রজেক্ট। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ করার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে চাঁদমামা তথ্য ভান্ডার অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এবং চাঁদমামা তথ্য ভান্ডার পৃথিবীর সকল দেশের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলবে। বাংলাদেশের ৮৭,১৯১ টা গ্রামের নামে ওয়েবসাইট হবে এবং প্রতিটা গ্রাম ওয়েবসাইটে ১৫০+ রকমের তথ্য ক্যাটেগরি দেয়া থাকবে। যেমনঃঐ গ্রামে  কয়টা  স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হোটেল, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আছে এমনকি ঐ গ্রামের ইলেক্ট্রিশিয়ানের নাম্বার পর্যন্ত পাওয়া যাবে। অর্থাৎ গ্রাম ওয়েবসাইটে ঐ গ্রাম সম্পর্কে এমন কোন তথ্য দেওয়া বাকি থাকবে না যা চাঁদমামার গ্রাম ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে না।

তথ্য ভান্ডারে উদ্যোক্তার কাজ কি?
প্রতিটা গ্রাম থেকে বাছাই করা উদ্যোক্তাগণ রেজিস্ট্রেশন করার পর নিজ গ্রামের নামে এডমিন প্যানেলসহ একটা ওয়েবসাইট পাবেন।উক্ত ওয়েবসাইটে ১৫০+তথ্যের ক্যাটেগরি দেয়া থাকবে। যেমনঃ ঐ গ্রামে কয়টা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হোটেল, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আছে  এমনকি ঐ গ্রামের ইলেক্ট্রিশিয়ানের নাম্বার পর্যন্ত পাওয়া যাবে।এই তথ্য সমূহ গ্রাম উদ্যোক্তা সংগ্রহ করবেন এবং গ্রাম ওয়েবসাইটে পোস্ট করবেন ফলে গ্রামসাইট টি তথ্য বহুল হবে। গ্রাম উদ্যোক্তা তথ্যের পাশাপাশি প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো খবর আকারে তার গ্রাম ওয়েবসাইটে পোস্ট করবেন।
তথ্য ভান্ডার কিভাবে সফল হবে ?
গ্রাম সাইটে তথ্য,খবর,সেবা ইত্যাদি নানা ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় সেবা ও তথ্য গ্রামবাসী যারা গ্রামে থাকেন,গ্রামের বাহিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অথবা দেশের বাহিরে থাকেন তারা সহ দেশের ও বিদেশের সকলের জন্য প্রয়োজন ফলে সবাই আপনার গ্রাম সাইট ভিজিট করবেন। অর্থাৎ আপনার গ্রাম ওয়েবসাইট খুব সহজেই পরিচিতি লাভ করবে। যেমনঃ আপনার গ্রামের কেউ যদি প্রবাসী হোন বা গ্রামের বাহিরে থাকেন তাহলে তিনি গ্রামের খবরের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন কারণ আপনার গ্রামের খবর শুধু আপনার গ্রাম সাইটে ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। আপনার গ্রামের ওয়েবসাইটে সকল ধরনের তথ্য,খবর ও সেবা থাকবে যা গ্রামবাসীর প্রয়োজন। আর আপনার ওয়েবসাইট ছাড়া আপনার গ্রামের নামে অন্যকোন ওয়েবসাইট বা সুযোগ সুবিধা থাকবে না বিঁধায় সবাই আপনার ওয়েবসাইটের উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য। আবার নিত্য প্রয়োজনীয় তথ্য,খবর ও সেবার জন্য অসংখ্য ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন। এভাবে সারা বাংলাদেশের সকল গ্রামের তথ্য,খবর ও সেবা নিয়ে গড়ে উঠবে সর্ববৃহৎ চাঁদমামা  তথ্যভান্ডার। 
আয়ঃ  তথ্য ছাড়া এই পৃথিবী অচল,প্রতিদিন দেশি ও বিদেশি অসংখ্য লোক তথ্যের জন্য তথ্যভাণ্ডারে বা গ্রাম ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন এতে ভিজিটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করানোর জন্য ঐ গ্রামের স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন দিবেন যা উদ্যোক্তাগণ স্বাধীন আয় হিসেবে পাবেন। তাই তথ্যের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব অর্থাৎ চাঁদমামা তথ্য ভান্ডার প্রজেক্ট লাভজনক।                                                                         
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ যেহেতু প্রতিজন উদ্যোক্তা এডমিন প্যানেল সহ ওয়েবসাইট পাবেন এবং নিয়মিত তথ্য,খবর ও অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন প্রজেক্টের পোষ্ট ওয়েবসাইটে দিবেন তাই সকল ধরনের প্রজেক্টের গুণগতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে সকল উদ্যোক্তার জন্য অনলাইন বেসিক,ইংলিশ বেসিক ও সাংবাদিকতা এই তিন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ  একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামুলক। কারণ অনলাইনে ওয়েবসাইটে কাজ করতে অনলাইন বেসিক কোর্স,অনলাইনের ভাষা ইংরেজিতে তাই বেসিক ইংলিশ ও খবর পোস্ট করতে হবে বিঁধায় সাংবাধিকতা কোর্স অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ণ।                        
বিঃদ্রঃ এমন কোন তথ্য বা খবর সংগ্রহ বা প্রচার করবেন না যে তথ্য বা খবরের জন্য আপনি সমস্যাই পড়বেন এবং চাঁদমামাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। মনে রাখবেন আপনি ছাড়াও ৯৯,৯৯৯ জন উদ্যোক্তার আয়ের উৎস চাঁদমামা।
মিডিয়া বা গণমাধ্যমঃ কোন ঘটনা বা খবর যে মাধ্যমে সহজেই জনগণের কাছে পৌছে দেয়া যায় সে মাধ্যমকে মিডিয়া বা গণমাধ্যম বলা হয়। বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নে গণমাধ্যমের গুরুত্ত অপরিসীম। গণমাধ্যম ছাড়া বর্তমান পৃথিবী অচল কারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে চলার পথে খবরের গুরুত্ব অনেক বেশী। কোন দেশের জাতীয়, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম,সংস্কৃতি,জীবনযাত্রা,অপরাধ,উন্নয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যম সব সময় সোচ্চার থাকে এবং জনগণের কাছে সকল ধরনের খবর পৌছে দেয় ফলে একটি দেশের অবস্থা,নিয়ম কানুন,আইন ইত্যাদি ঠিক থাকে।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল(চাঁদমামা ডট নিউজ)ঃ  –আজ থেকে ১০ বছর আগেও আমরা কল্পনা করি নাই অনলাইনে পত্রিকা পড়া যাবে।কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে খুবই দ্রুত আমরা অনলাইনে অব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন প্রতিটা মুহুর্তে যেকোন কাজে অনলাইন খুবই প্রয়োজনীয় একটা মাধ্যম।আর বর্তমানে দৈনিক পত্রিকার চাইতেও বেশী পাঠক অনলাইন পোর্টালে খবর পড়েন।কারণ অনলাইনে প্রতিমুহুর্তের খবর সাথে সাথে আপডেট পাওয়া যায় যা দৈনিক পত্রিকায় সম্ভব নয়। যেকোন খবর সম্পর্কে জনগণ নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে অনলাইন পোর্টালের খবরের নিচে কমেন্ট বক্সে। কম খরচে একইসাথে বিভিন্ন নিউজ পোর্টালের খবর পড়তে পারার কারণে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সমূহ। ফলে গণমাধ্যমে অনলাইন নিউজ গুলো খুবই গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখছে। চাঁদমামার গ্রাম উদ্যোক্তাগণ প্রতিটা গ্রাম সাইটে যদি প্রতিদিন ৩টা করে খবর দেয় তাহলে প্রায় ৩ লক্ষ খবর পাওয়া যাবে।এসব খবর থেকে বাছাই করা খবর গুলো প্রচার করা হবে চাঁদমামা অনলাইন নিউজ পোর্টাল চাঁদমামা ডট নিউজে।  প্রতিটা গ্রামের সকল ধরনের খবর সমূহ,সবার আগে দেশ বিদেশের সবার কাছে পৌছে যাবে চাঁদমামা অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে আমাদের কভারেজ এবং খবর বেশি তাই আমদের কোয়ালিটিও বেশি,কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘটে যাওয়া অনেক খবর অন্যান্য গণমাধ্যম কভারেজের অভাবে প্রকাশ করতে পারে না যা গণমাধ্যমের কাছে দেশের সুশীল সমাজ ও জনগণ কামনা করে না। কারণ অন্যান্য গণমাধ্যমের  কাছে যেখানে ৫৬০ টি থানাতে সংবাদ প্রতিনিধি নাই সেখানে চাঁদমামার প্রতিটা গ্রামেই মানে ১ লক্ষ প্রশিক্ষিত সাংবাদিক থাকবে। তাই একমাত্র আমরাই বলতে পারি অপ্রকাশিত থাকবে না কোন খবর।

অনলাইন নিউজ পোর্টালে উদ্যোক্তার কাজঃ 
গ্রাম উদ্যোক্তা নিজ গ্রাম সাইটে গ্রামের প্রতিদিনের খবর গুলো পোস্ট করবেন,সেখান থেকেই বাছাই করা খবর গুলো দেশবাসীর কাছে তুলে ধরবে চাঁদমামা ডট নিউজ। নিয়মিত চাঁদমামা ডট নিউজ সাইট ভিজিট করবেন এবং প্রতিদিন ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে চাঁদমামা ডট নিউজের খবর গুলো লাইক,শেয়ার করবেন।
কিভাবে নিউজ পোর্টাল সফল হবে?
কোন প্রজেক্ট সফলতার জন্য ঐ প্রজেক্ট সফলতার মাপকাটি বা পরিমাপক কি তা জানা  দরকার। আমরা সবাই জানি, অনলাইন প্রজেক্টের সফলতা ভিজিটর দিয়ে পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ অনলাইন প্রজেক্ট গুলোতে যার ওয়েবসাইটে ভিজিটর যত বেশি তার অবস্থান ও জনপ্রিয়তাও তত উপরে। তাই চাঁদ মামা নিউজ পোর্টাল সফল করতে হলে ভিজিটর ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে হবে। আর টপ তিনে পৌছাতে হলে যে পোর্টাল গুলো টপ তিনে আছে তাদের প্রতিদিনের ভিজিটর সংখ্যা অতিক্রম করতে হবে। বর্তমানে টপ তিনে থাকা পোর্টাল গুলোর দৈনিক গড় ভিজিটর ২.৫০-৩ লক্ষ। চাঁদ মামার ১ লক্ষ মালিক এবং সাথে ৩জন পরিবারের সদস্য,বন্ধুবান্ধব,আত্মীয়স্বজন চাঁদ মামা নিউজ পোর্টাল ভিজিট করলে প্রতিদিন ৪ লক্ষ ভিজিটর হয়। আর প্রতিদিন উদ্যোক্তাগণ ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের পোর্টালের নিউজ লাইক,শেয়ার করবে। যদি প্রতিজন উদ্যোক্তার ১০০ করেও ফেসবুক বন্ধু থাকে তাহলে মোট ১ কোটি ফেসবুক ব্যবহার কারীর কাছে আমাদের নিউজ বা পোর্টালের লিংক পৌছে যাবে ফলে প্রচারণার পাশাপাশি অনেক ভিজিটর বৃদ্ধি পাবে। এভাবে  ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই চাঁদমামা ডট নিউজ পোর্টাল সবচাইতে বেশী সংখ্যক ভিজিটর পাবে এবং জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করবে।
আয়ঃ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে খুবই ভাল আয় করতে পারে।জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গুলো মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন।  
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ যেহেতু প্রতিজন উদ্যোক্তা খবর সংগ্রহ করবেন এবং তা প্রচার করা হবে চাঁদমামার ৪ ধরনের গণমাধ্যমে। তাই সকল গণমাধ্যমে খবরের গুণগতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে সকল উদ্যোক্তার জন্য সাংবাদিকতা ও ফটোগ্রাফি এই দুই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামুলক। কারণ দেশবাসীর কাছে আমাদের মিডিয়া সমূহের গুণাবলী হল ১ লক্ষ প্রশিক্ষিত সাংবাদিক ও সারা দেশের প্রতিটা গ্রামেই কভারেজ। 
বিঃদ্রঃ এমন কোন খবর সংগ্রহ বা প্রচার করবেন না যে খবরের জন্য আপনি সমস্যায় পড়বেন এবং চাঁদমামাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। মনে রাখবেন আপনি ছাড়াও ৯৯,৯৯৯ জন উদ্যোক্তার আয়ের উৎস চাঁদমামা।
দৈনিক চাঁদমামা পত্রিকা (অফলাইন প্রজেক্ট)ঃ  অনলাইন নিউজ পোর্টালের সফলতার পর আমরা দৈনিক চাঁদমামা প্রকাশনা শুরু করব,যেহেতু আমাদের কাছে প্রতি গ্রামের অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশের সব খবর থাকবে তা দিয়ে আমরা প্রিন্টিং দৈনিক পত্রিকা শুরু করতে পারব। সবচাইতে বেশি কভারেজ এবং প্রশিক্ষিত প্রতিনিধির কারনে দৈনিক চাঁদমামা হবে সবচাইতে গুণগতমান সম্পন্ন ও বেশী সংখ্যক প্রকাশিত ও জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা।
দৈনিক পত্রিকায় উদ্যোক্তার কাজ কি?
উদ্যোক্তারা নিজের গ্রাম সাইটে নিয়মিত যে খবর গুলো পোষ্ট করবেন সেইসব খবর থেকে বাছাই করা খবর নিয়ে প্রতিদিন দৈনিক চাঁদমামা প্রকাশিত হবে। প্রতি গ্রামের উদ্যোক্তাগণ নিজ গ্রামে ১০জন( পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন) কে দৈনিক চাঁদমামার গুনগতমান,১ লক্ষ প্রশিক্ষিত সাংবাদিক ও প্রতি গ্রামেই কভারেজ সম্পর্কে জানালে সর্বমোট ১০ লক্ষ দেশবাসী নিয়মিত দৈনিক চাঁদমামা পড়বেন।
দৈনিক চাঁদমামা সফল কিভাবে হবে?
বর্তমানে প্রকাশিত সকল দৈনিকের মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানে যারা আছেন তাদের সর্বোচ্চ প্রচার বা প্রকাশিত পত্রিকার সংখ্যা ৫ লক্ষ। অন্যদিকে চাঁদ মামার প্রতি গ্রামেই উদ্যোক্তা থাকবে তারা যদি নিজ গ্রামে ১০জন( পরিবার,বন্ধুবান্ধব,আত্মীয়স্বজন) করেও পত্রিকা পাঠককে প্রচার/মার্কেটিং করে তাহলে প্রায় ১০ লক্ষ পাঠক পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ পাঠক,সাংবাদিক,কভারেজ এবং গুণাবলী দিয়ে দৈনিক চাঁদমামা প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানে আসতে ৫ থেকে ৬ মাসের বেশী সময় লাগবে না।
আয়ঃ দৈনিক পত্রিকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে খুবই ভাল আয় করতে পারে। জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা গুলোতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গুলো মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ যেহেতু প্রতিজন উদ্যোক্তা খবর সংগ্রহ করবেন এবং তা প্রচার করা হবে চাঁদমামার ৪ ধরনের গণমাধ্যমে। তাই সকল গণমাধ্যমে খবরের গুণগতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে সকল উদ্যোক্তার জন্য সাংবাদিকতা ও ফটোগ্রাফি এই দুই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামুলক। কারণ দেশবাসীর কাছে আমাদের মিডিয়া সমূহের গুণাবলী হল ১ লক্ষ প্রশিক্ষিত সাংবাদিক ও সারা দেশের প্রতিটা গ্রামেই কভারেজ। 
বিঃদ্রঃ এমন কোন খবর সংগ্রহ বা প্রচার করবেন না যে খবরের জন্য আপনি সমস্যাই পড়বেন এবং চাঁদমামাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। মনে রাখবেন আপনি ছাড়াও ৯৯,৯৯৯ জন উদ্যোক্তার আয়ের উৎস চাঁদমামা।
সিএম এফএম রেডিও (অনলাইন ও অফলাইন প্রজেক্ট)ঃ বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক গুলো এফএম রেডিও আছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও দৈনিক চাঁদমামার  সফলতার পর আমরা  সিএম এফএম রেডিও শুরু করব,যেহেতু আমাদের কাছে প্রতি গ্রামের অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশের সব খবর থাকবে যা দিয়ে আমরা ২৪ ঘন্টা খবরের রেডিও সিএম এফএম শুরু করতে পারব। সবচাইতে বেশি কভারেজ এবং বেশি প্রতিনিধির কারনে সিএম এফএম রেডিও হবে সবচাইতে গুণগতমান সম্পন্ন ও প্রচারিত এফএম রেডিও ।
উদ্যোক্তার কাজঃ প্রতিদিনের চলার পথে গ্রামবাসী,পরিবার,বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছে নিজের প্রতিষ্ঠান সিএম এফএম রেডিও সম্পর্কে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া।
সিএম এফএম রেডিও সফল কিভাবে হবে? বাংলাদেশে বর্তমানে ২৪ ঘন্টার এফএম রেডিও নাই অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামেই উদ্যোক্তাদের প্রচারনার মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করবে সিএম এফএম রেডিও। ফলে বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি শ্রোতা সিএম এফএম রেডিও শুনবেন। এতে এই প্রজেক্ট অল্প সময়ের মধ্যে টপ তিনে চলে আসবে। 
আয়ঃ ২৪ ঘন্টার খবরের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে সিএম এফএম রেডিও আয় করতে পারবে।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ যেহেতু প্রতিজন উদ্যোক্তা খবর সংগ্রহ করবেন এবং তা প্রচার করা হবে চাঁদমামার ৪ ধরনের গণমাধ্যমে। তাই সকল গণমাধ্যমে খবরের গুণগতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে সকল উদ্যোক্তার জন্য সাংবাদিকতা ও ফটোগ্রাফি এই দুই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামুলক। কারণ দেশবাসীর কাছে আমাদের মিডিয়া সমূহের গুণাবলী হল ১ লক্ষ প্রশিক্ষিত সাংবাদিক ও সারা দেশের প্রতিটা গ্রামেই কভারেজ।
বিঃদ্রঃ এমন কোন খবর সংগ্রহ বা প্রচার করবেন না যে খবরের জন্য আপনি সমস্যাই পড়বেন এবং চাঁদমামাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। মনে রাখবেন আপনি ছাড়াও ৯৯,৯৯৯ জন উদ্যোক্তার আয়ের উৎস চাঁদমামা। 
সিএম টিভি চ্যানেল(২৪ ঘন্টা খবরের অনলাইন ও অফলাইন প্রজেক্ট) ঃ
বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক গুলো টিভি চ্যানেল আছে। বিভিন্ন মিডিয়া প্রজেক্টের ধারাবাহিক সফলতার পর আমরা  সিএম টিভি চ্যানেল শুরু করব,যেহেতু আমাদের কাছে প্রতি গ্রামের অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশের সব খবর থাকবে যা দিয়ে আমরা ২৪ ঘন্টা খবরের সিএম টিভি চ্যানেল শুরু করতে পারব। সবচাইতে বেশি কভারেজ এবং বেশি প্রশিক্ষিত সাংবাদিক প্রতিনিধির কারনে সিএম টিভি চ্যানেল হবে সবচাইতে গুণগতমান সম্পন্ন,জনপ্রিয় ও প্রচারিত ২৪ ঘন্টার খবরের টিভি চ্যানেল ।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ প্রতিদিনের চলার পথে গ্রামবাসী,পরিবার,বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছে নিজের প্রতিষ্ঠান সিএম টিভি চ্যানেল সম্পর্কে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া।
সিএম সিএম টিভি চ্যানেল সফল কিভাবে হবে?
বাংলাদেশে বর্তমানে ২৪ ঘন্টার খবরের টিভি চ্যানেল নাই বললেই চলে কারণ কভারেজের অভাবে টিভি চ্যানেল গুলো প্রতি মুহুর্তের খবর সংগ্রহ করতে অপারগ কিন্তু চাঁদমামা প্রতিটা গ্রাম থেকে প্রতি মুহুর্তের খবর প্রচার করতে পারবে।   অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামেই উদ্যোক্তাদের প্রচারনার মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করবে সিএম টিভি চ্যানেল। ফলে বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি দর্শক সিএম টিভি চ্যানেলে খবর দেখবেন। এতে এই প্রজেক্ট অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং অন্যান্য টিভি চ্যানেলের মধ্যে টপ তিনে চলে আসবে।
আয়ঃ টিভি চ্যানেল এ বিজ্ঞাপন আয় সবচাইতে বেশি কারণ  বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের প্রচারণার জন্য টিভি চ্যানেলের উপর নির্ভরশীল। টিভি চ্যানেল সমূহ বিজ্ঞাপন থেকে মোটা অংকের টাকা আয় করে থাকে।  
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ যেহেতু প্রতিজন উদ্যোক্তা খবর সংগ্রহ করবেন এবং তা প্রচার করা হবে চাঁদমামার ৪ ধরনের গণমাধ্যমে। তাই সকল গণমাধ্যমে খবরের গুণগতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে সকল উদ্যোক্তার জন্য সাংবাদিকতা ও ফটোগ্রাফি এই দুই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামুলক। কারণ দেশবাসীর কাছে আমাদের মিডিয়া সমূহের গুণাবলী হল ১ লক্ষ প্রশিক্ষিত সাংবাদিক ও সারা দেশের প্রতিটা গ্রামেই কভারেজ।
বিঃদ্রঃ এমন কোন খবর সংগ্রহ বা প্রচার করবেন না যে খবরের জন্য আপনি সমস্যাই পড়বেন এবং চাঁদমামাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। মনে রাখবেন আপনি ছাড়াও ৯৯,৯৯৯ জন উদ্যোক্তার আয়ের উৎস চাঁদমামা।
*) মোবাইল মানি/ব্যাংকিং সম্পর্কে আলোচনাঃ মোবাইল মানি বর্তমান যুগে একটা খুবই প্রয়োজনীয় সেবা। পৃথিবীর সকল ধরনের সামাজিক কাজের মধ্যে মোবাইল মানি/ব্যাংকিং   অন্যতম। কারণ নিম্ম স্তরের জনগণ ব্যাংকিং সুবিধা থেকে  বঞ্চিত ফলে কস্টার্জিত টাকা স্বজনদের কাছে  সঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পারার কারণে অনেক পরিবার অনাহারে,অর্ধাহারে,বিনা চিকিৎসায় দুর্বিসহ জীবন যাপন করে। তাই উন্নয়নশীল দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য মোবাইল মানি খুবই প্রয়োজনীয় মাধ্যম। টাকা আদান-প্রদানের হারের উপর দেশের উন্নয়ন নির্ভরশীল ফলে একটি দেশের নিম্নস্তরের জনগণ যদি টাকা আদান-প্রদান করতে অপারগ হয় তাহলে সেই দেশের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হয়। এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে মোবাইল প্রযুক্তির সাথে টাকা লেনদেনের একটা আইডিয়া যোগ করা হয় এবং নাম দেয়া হয় মোবাইল মানি বা মোবাইল ব্যাংকিং। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশে অনেক প্রকারের মোবাইল মানি/ব্যাংকিং সিস্টেম চালু আছে।যেমনঃ ইউক্যাশ,বিকাশ,এমক্যাশ ইত্যাদি। প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিং সমূহের চাইতেও সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং সকল স্তরের (নিম্নআয়ের,অশিক্ষিত ও গরিব)  মানুষের জন্য ব্যবহার উপযোগী চাঁদমামার মোবাইল ব্যাংকিং প্রজেক্টের নাম হবে সি-ক্যাশ। এই প্রজেক্ট সফল হবে কারণ অন্যান্য মোবাইল মানি থেকেও ভিন্নধর্মী ও যুগউপযোগী,সহজ ব্যবহারযোগ্য,ঝামেলা বিহীন,রিস্ক মুক্ত এবং সাথে আছে সারাদেশের কভারেজ ও ১ লক্ষ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি।
সি-ক্যাশ (অফলাইন প্রজেক্ট)ঃ এটা চাঁদমামার অফলাইন প্রজেক্টগুলোর মধ্যে অন্যতম । প্রচলিত মোবাইল মানি থেকে ভিন্নভাবে সহজেই সবস্তরের জনগণের কাছে ব্যবহার উপযোগী মোবাইল মানি সি-ক্যাশ হল চাঁদমামার অন্যতম প্রজেক্ট। সি-ক্যাশ মোবাইল মানি সিস্টেমে নিরাপত্তার জন্য গোপন নাম্বারের পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ভয়েস কর্ড ব্যবহার করা হবে ফলে অশিক্ষিত মোবাইল ব্যবহারকারী নিশ্চিন্তে মোবাইল মানি সি-ক্যাশ ব্যবহার করবেন।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেমঃ সি-ক্যাশ অ্যাপটি গ্রাহক নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে চালু করবেন তারপর যে নাম্বারে টাকা পাঠাবেন সেই নাম্বারটি এবং টাকার পরিমাণ ২ বার করে মুখে( বাংলায় বা ইংরেজিতে) বলবেন অথবা ডিজিট প্রেস করবেন( বাংলায় বা ইংরেজিতে) এরপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলেই টাকা চলে যাবে নির্দিষ্ট গ্রাহকের মোবাইল নাম্বারে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট (যা নকল বা কপি করা যায় না) নিরাপত্তর জন্য গোপন নাম্বারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে।
ভয়েস কর্ড সিস্টেমঃ সি-ক্যাশের জন্য নির্ধারিত ২৫২৭৪ এই নাম্বারে কল করলেই কল সি-ক্যাশ সিস্টেমে অটো রিসিভ হবে তারপর গ্রাহক যে নাম্বারে টাকা পাঠাবেন সেই নাম্বারটি এবং টাকার পরিমাণ ২ বার করে মুখে( বাংলায় বা ইংরেজিতে) বললেই টাকা চলে যাবে নির্দিষ্ট গ্রাহকের মোবাইল নাম্বারে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের ভয়েস(যা নকল বা কপি করা যায় না) নিরাপত্তার জন্য গোপন নাম্বারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে। 
এই দুটি পদ্ধতি ছাড়াও বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল মানির মত সকল ধরনের পদ্ধতিও থাকবে সি-ক্যাশে। 
উক্ত ২ ধরনের পদ্ধতিতে অশিক্ষিত ও যেকোন ধরনের দোকানদার মোবাইল মানির ব্যবসা করতে পারবেন। কারণ সি-ক্যাশ ব্যবহার সহজ ও দ্রুত। সি-ক্যাশ এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে যেকোন দোকানদার মোবাইল মানি বিক্রয় করতে আগ্রহী হয়। বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল মানি পাঠানো সময় সাপেক্ষ ও ঝামেলাপুর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের মালপত্র বিক্রয়কারী দোকানদার মোবাইল মানি বিক্রয় করে না। ফলে বর্তমানে প্রচলিত সকল মোবাইল মানি সিস্টেমে গ্রাহকরা মোবাইল মানি সার্ভিস হাতের নাগালে,যথাসময়ে বা প্রয়োজনের সময় না পাওয়াতে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়েন। তাই মোবাইল মানি বাংলাদেশের সকল শ্রেণীর জনতার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাইনি। 
বাংলাদেশে প্রচলিত মোবাইল মানি লেনদেনে সার্ভিস চার্জ বেশি এবং রিসিভার বা টাকা গ্রহণকারীকে টাকা গ্রহণে উৎসাহিত করার কোন সিস্টেম নাই অপরদিকে সি-ক্যাশ লেনদেনে  সার্ভিস চার্জ কম থাকবে এবং রিসিভার বা টাকা গ্রহণকারীকে সি-ক্যাশের সার্ভিস চার্জ থেকে একটা পারসেন্টেজ দেয়া হবে। ফলে সকলেই চাইবে সি-ক্যাশের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করতে। টাকা গ্রহণকারীর ইচ্ছাতেই মূলত টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয় তাই মোবাইল মানি সি-ক্যাশ সকল শ্রেণীর জনতার কাছে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত মোবাইল মানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। 
অন্যদিকে সি-ক্যাশের লেনদেন খুবই অল্প সময়ে,সহজেই ও সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতিতে করা যাবে বিধায় সকল ধরনের দোকানে সি-ক্যাশ সার্ভিস পাওয়া যাবে। ফলে গ্রাহকরা সি-ক্যাশ সার্ভিস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সি-ক্যাশের মাধ্যমে কেনাকাটা বা লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং টাকা উত্তোলন বা ক্যাশ করার পরিমাণ কমে যাবে বা প্রয়োজন হবে না। ক্যাশ টাকার পরিবর্তে মোবাইল মানি সি-ক্যাশ ব্যবহার করে দৈনন্দিন সকল লেনদেন,কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারবে দেশের জনগণ। ফলে মানুষ সহজে ও নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে।    
উদ্যোক্তাদের কাজঃ প্রতিদিনের চলার পথে গ্রামবাসী,পরিবার,বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছে নিজের প্রতিষ্ঠান সি-ক্যাশের সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে প্রচারণা করবে এবং প্রতিদিন ৫ জন করে গ্রামবাসীর মোবাইলে ফ্রীতে সি-ক্যাশের একাউন্ট করে দিবে।
সি-ক্যাশ সফল কিভাবে হবে?
বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি।  ১ জন উদ্যোক্তা প্রতিদিন ৫ জনকে একাউন্ট করালে সারা দেশে ১ লক্ষ উদ্যোক্তা প্রতিদিন ৫ লক্ষ ও মাসে ১.৫০ কোটি জনের মোবাইলে একাউন্ট করাতে পারবে এভাবে ৬ মাসে সর্বমোট ৯-১২ কোটি মোবাইলে সি-ক্যাশ একাউন্ট করা যাবে। ফলে দেশে ক্যাশ টাকার চাইতে মোবাইল মানির প্রচলন বেড়ে যাবে ফলে দেশে লেনদেনের হার বৃদ্ধি ও নিরাপদ হবে। লেনদেনের হার বৃদ্ধি হলে সরকারের, জনগণের ও দেশের উন্নয়ন হবে এবং সি-ক্যাশের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। 
আয়ঃ বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষে থাকা মোবাইল মানির গ্রাহক সংখ্যা ৪-৫ কোটি এবং তাদের আয়ের পরিমাণ কয়েকটি ব্যাংকের আয়ের যোগফলের সমান। অতএব সি-ক্যাশের আয় হবে দ্বিগুণ । সি-ক্যাশ থেকে প্রতি মাসে আনুমানিক আয় হবে ২০০ কোটি টাকা । এই টাকার মালিক আপনি,আমি ও আমরা সবাই, যা অকল্পনীয় হলেও চাঁদমামার মাধ্যমে সম্ভব হওয়া সময়ের দাবি মাত্র। তাই আসুন চাঁদমামার যোগ্য উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করি এবং আমাদের সময়,মেধা ও শ্রম দিয়ে চাঁদমামার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে দেশের মানুষের সেবা করার মাধ্যমে নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলি।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ সি-ক্যাশের সফলতা নির্ভর করবে উদ্যোক্তাদের মৌখিক প্রচারণা বা মার্কেটিং এর উপর তাই সকল উদ্যোক্তার উপর ওরাল/মৌখিক মার্কেটিং ও ইংলিশ বেসিক এই ২ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন বাধ্যতামূলক।
* ই-কমার্স বা অনলাইন প্রজেক্ট বলতে কি বুঝায়?  বর্তমান বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। সারা বিশ্বের সকল ধরনের পণ্য,সেবা,সুযোগ সুবিধা,বিনোদন,তথ্য,খবর সব কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর এবং অনলাইন ভিত্তিক। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ অনলাইন ব্যবহারকারী ফলে অনলাইন ভিত্তিক সেবা বা ই-কমার্স প্রজেক্ট গুলো অনেক বেশি লাভজনক ও সম্ভাবনাময়। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত সকল ধরনের অনলাইন ভিত্তিক সেবা বা ই-কমার্স প্রজেক্ট সমূহ বাংলাদেশের গ্রামে বা শহরে বসবাসকারী অনলাইন নির্ভর সেবা থেকে বঞ্চিত এবং অনলাইন ব্যবহারকারী সকল (১৭ কোটি) মানুষের কাছে পৌছিয়ে দেওয়ায় চাঁদমামার প্রত্যয়। আমরা খুবই আশাবাদী কারণ এই সব অনলাইন ভিত্তিক সেবা বা ই-কমার্স প্রজেক্ট গুলোর আয়ের পরিমাণ দিন দিন বেঁড়েই চলছে। ই-কমার্স বা অনলাইন প্রজেক্ট গুলোর মান,র‍্যাংকিং বা সফলতা নির্ভর করে ভিজিটর বা দর্শকের  পরিমাণের উপর। যে ওয়েবসাইটের বা অনলাইন প্রজেক্টের ভিজিটর যত বেশী সেই ওয়েবসাইট তত বেশী সফল অর্থাৎ ভিজিটর বেশী হলে আয়ও বেশী। এবার আসা যাক ভিজিটর বেশী হলে আয় বেশী হয় কেন? ভিজিটর বা দর্শক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সেবা বা পণ্যের জন্য ভিজিট করে থাকে। এসব ভিজিটরের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য বিভিন্ন কোম্পানী তাদের পণ্য বা সেবার প্রচারণা মূলক বিজ্ঞাপন সমূহ ভিজিটর পুর্ণ ওয়েবসাইট গুলোতে দিতে আগ্রহী হয়,ফলে ওয়েবসাইট মালিকগণ বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানী গুলো থেকে টাকা নেয়। বর্তমান বিশ্বের ধনীদের তালিকায় অনলাইন ও আইডিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মালিকরাই এগিয়ে।যেমনঃ ফেসবুক, গুগুল, আলিবাবা ডট কম, আমাজন, ইবে, ফ্লিপকার্ট  ইত্যাদি । আমাদের দেশে অনেকেরই ভুল ধারনা আছে,যেমন অনেকেই মনে করে আমরা মোবাইল অপারেটর থেকে যেই  এমবি বা ডাটা ক্রয় করি সেখান থেকেই একটা অংশ আমরা যেসব ওয়েবসাইট ভিজিট করি সেইসব ওয়েবসাইট মালিকরা পান। আসলে এই তথ্য ১০০% ভুল। কারণ মোবাইল অপারেটর কোন ওয়েবসাইট মালিককে টাকা প্রদান করেন না। আমরা সবাই কম বেশী সময় ফেসবুক ব্যবহার করে থাকি এতে ফেসবুক আমাদের কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা নেয় না তাহলে ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ এত অল্প সময়ে বিশ্বের ১৭ নাম্বার ধনী হলেন কিভাবে? ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বর্তমানে আমাদের সবার কাছে অনেকপ্রিয় হয়ে ওঠেছে আজ থেকে ৫/৬ বছর আগেও ফেসবুক এত জনপ্রিয় ছিল না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়ে যাওয়াতে বিভিন্ন কোম্পানী তাদের পণ্যের বা সেবার প্রচারণার জন্য ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে থাকে ফলে দিন দিন ফেসবুকের আয় বেড়ে যায়।এভাবেই ফেসবুক প্রচুর আয় করে থাকে ঠিক একই ভাবে অনলাইন প্রজেক্ট বা ওয়েবসাইট দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানী একই সাথে নিজেদের সেবা বা পণ্যও বিক্রয় করে এবং ঐ সেবা বা পণ্য কিনতে আসা বিভিন্ন ভিজিটরকে অন্যান্য কোম্পানীর বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমেও আয় করে থাকে। এইজন্যই অনলাইনে বিনিয়োগ কম কিন্তু আয় কয়েকগুণ হয়ে থাকে। 
চাঁদমামার ই-কমার্স বা অনলাইন প্রজেক্ট সমুহ সফল হওয়ার কারণঃ
আমরা জানতে পারলাম অনলাইন প্রজেক্ট বা ওয়েবসাইট দিয়ে কিভাবে আয় করা যায়।সকলের কাছে একটা বিষয় এখন পরিষ্কার আর তা হল অনলাইন প্রজেক্ট সমুহ সফল করার জন্য ভিজিটর দরকার। অর্থাৎ যে ওয়েবসাইটের ভিজিটর যত বেশী সেই ওয়েবসাইটের আয়ও তত বেশী।তাই বিভিন্ন অনলাইন প্রজেক্ট গুলো নিজেদের প্রজেক্ট জনগণের কাছে পরিচিত করানোর জন্য প্রচার-প্রচারণায় বা মার্কেটিং এ প্রচুর বিনিয়োগ করে থাকেন এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার পর থেকেই ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়তে থাকে ফলে তাদের আয় শুরু হয়। অন্যান্য অনলাইন প্রজেক্ট সমুহ প্রচার-প্রচারনার জন্য  ৫০০-১০০০ কোটি টাকা খরচের মাধ্যমে ২-৩ বছরে যে পরিমাণ পরিচিতি লাভ করতে পারবে সেখানে আমরা ১ লক্ষ উদ্যোক্তা শুধু মাত্র ৫-৬ মাসের মধ্যে কোন ধরণের বিনিয়োগ ছাড়াই( শুধু মাত্র ওয়েবসাইট বানাতে অল্প টাকা খরচ) তাদের চাইতেও বেশী পরিচিতি লাভ করতে পারব । কারণ আমাদের চাঁদমামার অনলাইন প্রজেক্ট গুলো অন্যান্য অনলাইন প্রজেক্ট সমুহ থেকে ভিন্নধর্মী আইডিয়া যুক্ত ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হবে এবং বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামেই আমাদের উদ্যোক্তারা প্রতিদিন ৫ জন মানুষের কাছে আমাদের প্রজেক্ট সম্পর্কে জানালে দিনে ৫ লক্ষ, মাসে ১.৫ কোটি এবং ৬ মাসে ৯ কোটি মানুষ আমাদের প্রজেক্ট সম্পর্কে জানবে এবং পণ্য বা সেবা ভোগ করবে। অতএব এই বাস্তবভিত্তিক আইডিয়া ও সাধারণ হিসেবটা বুঝতে পারলেই চাঁদমামার যেকোন ধরণের প্রজেক্ট কিভাবে সর্বোচ্চ সফলতায় নেওয়া যাবে তা সকলের কাছে পরিষ্কার হবে। এই কথার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে, চাঁদমামার আসল শক্তি হলেন ১ লক্ষ উদ্যোক্তা যারা সবাই চাঁদমামার মালিক।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ অনলাইন প্রজেক্ট সমুহ সফল করার জন্য সকল উদ্যোক্তাদেরকে প্রতিদিন প্রজেক্ট সমুহের সুযোগ সুবিধা গ্রামের জনগনের সাথে আলোচনা করতে হবে এবং সকল ধরনের সামাজিক মাধ্যমে লাইক শেয়ার দিয়ে প্রচার করতে হবে।
আয়ঃ বর্তমান বিশ্বে অনলাইন প্রজেক্ট সমুহের আয় সবচাইতে বেশী। কারণ বর্তমান বিশ্বের ধনীদের তালিকায় অনলাইন ও আইডিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মালিকরাই এগিয়ে। যেমনঃ ফেসবুক,গুগুল,আলিবাবা,আমাজন,ইবে,ফ্লিপকার্ট ইত্যাদি । অতএব অনলাইন ভিত্তিক সকল প্রজেক্ট থেকে মাসে হাজার কোটি টাকা আয় করা চাঁদমামার কাছে সহজসাধ্য ব্যাপার।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনঃ যেহেতু অনলাইন প্রজেক্টের মালিক সকল উদ্যোক্তারা হবেন তাই নিজেদের প্রজেক্ট সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে। আর ভালভাবে জানার জন্য অনলাইন বেসিক কোর্স ও ইংলিশ বেসিক কোর্স একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামুলক।
চাঁদমামা অনলাইন প্রজেক্টের সুবিধা বা সার্ভিস কিভাবে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনে দেয়া যায় ?
বিশ্বে এই প্রথম চাঁদমামা সকল ধরনের অনলাইন সার্ভিসকে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অফলাইনে থাকা জনগণের কাছেও পৌঁছে দিবে। দেশ,বিদেশের বাস,এয়ার এর টিকেট এবং হোটেলরুম,ই-ফুড, ই-মেডিকেল, ই-টিকেটিং, ই-শপ, ই-কৃষি, জবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া,সার্চইঞ্জিন অনলাইনে বা উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে শহরাঞ্চল বা গ্রামাঞ্চলের  ঘরে বসেই বুকিং দেওয়ার মাধ্যমে এসব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন দেশবাসী। এক্ষেত্রে অন্যান্য অনলাইন সার্ভিস থেকে আমাদের সার্ভিস মানুষ বেশি গ্রহণ করবে কারণ আমরা অনলাইনে সার্ভিস দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অফলাইনে এমনকি বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে সার্ভিস দিতে পারব। যেমনঃ বাংলাদেশে ৬.৫০ কোটি মানুষ অনলাইন ব্যবহারকারী যারা অনলাইন সার্ভিসে অভ্যস্ত কিন্তু বাকি ১০.৫০ কোটি মানুষ অনলাইনের আওতাভুক্ত নয় যারা অনলাইন সার্ভিস পাই না ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান অনুন্নত। অনলাইনের আওতাবিহীন ১০.৫০ কোটি মানুষকে অনলাইন সার্ভিসের সুযোগ সুবিধা বুঝিয়ে অনলাইনের সার্ভিস প্রদান করা গেলে অনেক বেশী লাভবান হওয়া সম্ভব।
উধাহরনঃ অনলাইন সুবিধা বলতে আমরা বুঝি কম সময়ে সহজেই ভালমানের সেবা হাতের নাগালে পাওয়া। বর্তমানে দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে গ্রাম অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও উন্নত জীবনযাত্রার চাহিদা বাড়ছে কিন্তু অনলাইন ব্যবহারকারী না হওয়াতে তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ।অন্যদিকে অনলাইন সেবা নির্ভর প্রতিষ্ঠান গুলো দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয় করার উদেশ্যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না। কারণ তাদের প্রচারনার ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রচারণা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হল তারা বুজতে পারে না তাদের কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক কোন অঞ্চলে বেশি?ফলে তারা শুধু শহরাঞ্চলে বেশি বেশি প্রচারণা করে থাকে এতে ব্যয় বেশি হয় কিন্তু গ্রাহকসংখ্যা নির্দিষ্ট ও সীমিত হওয়ায় আয়ের পরিমাণ কম হয়। ব্যয়ের পরিমাণ কমানোর জন্য অনেক সময় তারা পন্যের বা সেবার মান কমিয়ে দেয় এবং দাম বাড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে দেশের প্রতিটি গ্রামে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রচারণা করার মত বিনিয়োগ এককথায় অসম্ভব। গতানুগতিক ব্যবসায়িক প্রজেক্টে এই সমস্যা থাকায় অনেক সময় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এইসব সমস্যা চিন্তা করে চাঁদমামা দেশের প্রতিটা গ্রাম থেকে একজন করে উদ্যোক্তা বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদেরকে প্রশিক্ষণ ও কোম্পানির মালিকানা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়াতে দেশের প্রতি গ্রামেই চাঁদমামার জনশক্তি তৈরি হয়। এই বিপুল সংখ্যক জনশক্তি একত্রে কোন প্রজেক্ট শুরু করলে এবং দেশের প্রতিটা গ্রামে প্রচার প্রচারণা চালালে। এবং নিজেরাই সকল সেবা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার পত্যয় নিলে কোন প্রকারের বিনিয়োগ ছাড়া ভাল অংকের টাকা আয় করা  সম্ভব।  
চাঁদমামা ই-টুরিজ্যমঃ টুরিজ্যম বলতে আমরা বুঝি ভ্রমণ সম্পর্কিত সার্ভিস সমূহ।যেমনঃ বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান, হোটেল-মোটেল,পর্যটন কেন্দ্র ইত্যাদি। এসবের সার্ভিস বা সেবা দেওয়াকে টুরিজ্যম ব্যবসা বলে আর সেইসব সেবা/সার্ভিস অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়াকে ই-টুরিজ্যম বলা হয়। বিশ্বের সকল উন্নত দেশ পর্যটন ব্যবসার উপর নির্ভরশীল যেমন মালয়েশিয়া,থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর সহ অনেক দেশের মূল আয় হচ্ছে পর্যটন শিল্প। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অনেক সম্ভাবনাময়ী তাই বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে পর্যটন খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। এই ব্যবসা খুবই লাভজনক ও মজার হয়। কেন? কারণ এসব ব্যবসা সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক। সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসা অন্যান্য ব্যবসা থেকে আলাদা কেন? কারণ সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসায় উৎপাদন খরচ নাই। যেহেতু উৎপাদন খরচ নাই তাই এসব ব্যবসায় গ্রাহক বেশি থাকলে লাভ আর গ্রাহক কম থাকলে ক্ষতি নাই। একটা উদাহরণের মাধ্যমে বুঝানো সহজ হবে,আপনি দেখবেন কক্সবাজারে ভাল মানের যে হোটেল গুলো আছে সেগুলোর প্রতিদিনের রুম ভাড়া ৫০০০ টাকা,আপনি যদি ৪৮০০ টাকাও অফার করেন তারা রুম দিবে না। কিন্তু আপনি যদি অন্য কোন টুরিজ্যম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই হোটেলের রুম  বুকিং দেন তখন আপনি ৪৫০০ টাকা দিয়েও সেই হোটেলের রুম পাবেন কিন্তু কেন বা কিভাবে সম্ভব ? ধরি একটা হোটেলের মোট রুম সংখ্যা ১০০টি, তাহলে বৎসরে উনারা রুম ভাড়া দিতে পারেন ৩৬৫*১০০=৩৬,৫০০ রাত । এবার আসা যাক মুল হিসেবে –ধরি ১০০ রুমের কোন হোটেলে আজকের দিনে গ্রাহক আসল ৭০ জন তাহলে কি ঐ হোটেল বাকি ৩০ রুমের ভাড়া পাবেন ? নিচ্চয়ই না। তাহলে কি ঐ ৩০ রুম পরের দিন ১০০ রুমের সাথে যোগ হবে মানে পরের দিনের রুমের সংখ্যাকি ১৩০ হবে ? অবশ্যই না। যেহেতু এসব ব্যবসা সময় সম্পর্কিত মানে আজকের দিনে গ্রাহক বেশি আসলে লাভ বেশি আর যদি ৭০ জন আসে তাহলে কি ক্ষতি হবে? সবাই বলবেন হ্যাঁ,কিন্তু উত্তর হল না। গ্রাহক কম আসলেও ক্ষতি হয় না কারণ যে রুম গুলো ভাড়া হয় নি সেই রুম গুলোতে কোন উৎপাদন খরচ নাই বা পানি ,বিদ্যুৎ, গ্যাস খরচ নাই। উৎপাদন খরচ বলতে কি বুঝায় ? কোন খাবার হোটেলে ১০০ জনের জন্য খাবার তৈরি করা হলে যদি ৭০ জন আজকের দিনে খাবার খায় তাহলে বাকি ৩০ জনের খাবার কিন্তু নষ্ট হয়ে যায়,ঐ নষ্ট খাবার তৈরি করতে যে খরচ হয়েছিল সেটাকে বলা হয় উৎপাদন খরচ। নষ্ট হওয়া খাবারের উৎপাদন খরচ মোট লাভের অংশ থেকে বিয়োগ করলে লাভের স্থানে লোকসান হয়। এবার নিচ্ছয়ই বুঝতে পারছেন সেবা বা সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসায় উৎপাদন খরচ না থাকাতে  গ্রাহক কম হলেও লোকসান গুনতে হয় না। মনে রাখবেন কোন হোটেলে সারা বছর গড়ে ৭০% এর উপরে গ্রাহক হয় না। একই ভাবে সকল ধরনের সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসার বিশেষভাবে টুরিজ্যম ব্যবসার গ্রাহক গড়ে ৭০% ধরা হয়। কারণ এসব ব্যবসা সময়ের উপর নির্ভরশীল যেমন ভালমানের যাত্রীবাহী বাস গুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রী কম হলেও যাত্রা শুরু করে।
এবার আসা যাক মুল আলোচনায়, এতক্ষণ আমরা যা বুঝলাম তা হল হোটেল এবং বাস এর গড় গ্রাহক ৭০% । বাকি ৩০% কে মাথাই রেখে আমাদের আশেপাশের সকল পর্যটন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন, যেমন ভাবে আমরাও করব আমাদের চাঁদমামা ই-টুরিজ্যম প্রজেক্ট। কিন্তু কিভাবে? উদাহরণঃ১০০ রুমের হোটেলে বৎসরে ৩০% রুম খালি থাকলে মোট খালি রুমের সংখ্যা হয় ১০৯৫০ রাত । এই খালি থাকা রুমগুলো হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিভিন্ন টুরিজ্যম প্রতিষ্ঠানকে নাম মাত্র মূল্যে অর্থাৎ স্বাভাবিক মূল্য থেকে প্রায় ৬০-৭০% কম মূল্যে বিক্রয় করে থাকে এতে হোটেল কতৃপক্ষ একসাথে মোটা অংকের টাকা পায়,অপরদিকে টুরিজ্যম প্রতিষ্ঠান গুলো খুবই কম মুল্যে রুম গুলো কিনতে পারে বিধায় বেতনভুক্ত জনবল দিয়ে প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে গ্রাহক সৃষ্টি করে মোটা অংকের লাভ করে থাকে।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ ই-টুরিজ্যম অনলাইন প্রজেক্ট হওয়াতে অনলাইনে গ্রাহক থাকবেই পাশাপাশি আমরা চাঁদ মামা ই-টুরিজ্যম সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে জানাবো। এবং নিয়মিত চাঁদমামা ই-টুরিজ্যম ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ লাইক শেয়ার করব।
চাঁদমামা ই-টুরিজ্যম সফল হবে কিভাবে?
চাঁদমামা দেশের সকল হোটেল,বাস মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কম মুল্যে হোটেল রুম ও বাসের টিকেট কিনে বা বুকিং করে নিলে তা বিক্রয় করে খুবই ভাল আয় করা যাবে। যেহেতু প্রতিটা গ্রামেই আমাদের উদ্যোক্তা থাকবে আমরা যদি প্রতিমাসে সর্বনিম্ন ১০ জনকে হোটেল প্যাকেজ বিক্রয় করি আমাদের প্রতিমাসে প্রায় ১০ লক্ষ রুম বিক্রয় হবে। ১০ লক্ষ রুম থেকে বিশাল অংকের টাকা আয় করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পর্যটন খাতে অবদানের জন্য সুনাম অর্জন করবে চাঁদমামা।
আয়ঃ ৫০০০ টাকার হোটেল রুম ৭০% ডিসকাউন্টে ক্রয় করলে আমরা পাব ১৫০০ টাকা করে প্রতি রুম। আমরা যদি গ্রাহকদের কাছে ৪৫০০ টাকা করে বিক্রয় করি তাহলে গ্রাহকরা আমাদের সেবা গ্রহন করবে কারণ আমাদের কাছ থেকে ৫০০০ টাকার রুম ক্রয় করতে পারবে ৪৫০০ টাকা দিয়ে। তাহলে রুম প্রতি আমাদের লাভ থাকবে ৩০০০ টাকা করে। মাসে ১০ লক্ষ রুমে আমাদের আয় হবে ৩০০ কোটি টাকা যা আসলেই চমকে দেওয়ার মত। কি চিন্তা করছেন ? হোটেল রুম কি ৭০% ডিসকাউন্টে পাওয়া যাবে কিনা? আমরা প্রতি গ্রামে মাসে ১০ জন গ্রাহক পাব কিনা ? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাবেন আমাদের চারপাশে গড়ে উঠা বড় বড় টুরিজ্যম কোম্পানী গুলো দেখে,তাদের কাছে নিজস্ব হোটেল বা বাস নাই কিন্তু বিনিয়োগ দেখবেন কোটি টাকা এবং তারা বেতনভুক্ত জনবল দিয়ে প্রচার প্রচারণাতে খরচ করেও যদি লাভ করতে পারেন তাহলে নিচ্ছয়ই অনেক কম মুল্যে বা ৭০% ডিসকাউন্টে রুম ক্রয় করা যায়। আর আমরা প্রতি গ্রাম থেকে মাসে ৫ জন করে গ্রাহক পেলেও ১৫০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। 
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ ই-টুরিজ্যমের সফলতা নির্ভর করবে উদ্যোক্তাদের মৌখিক প্রচারণা বা মার্কেটিং এর উপর তাই সকল উদ্যোক্তার উপর ওরাল/মৌখিক মার্কেটিং ও ইংলিশ বেসিক এই ২ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও  বাধ্যতামূলক।
চাঁদমামা ই-মেডিক্যাল সাইটঃ
ডাক্তারদের সিরিয়াল,ঘরে বসে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া থেকে শুরু করে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসা  সরঞ্জাম পাওয়া যাবে চাঁদমামার ই-মেডিক্যাল সাইটে। আমাদের দেশে ভাল চিকিৎসা অনেক ব্যায়বহুল এবং ভাল ডাক্তারের পরামর্শ বা সিরিয়াল পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। সিরিয়ালের জন্য অনেক সময় ১ সপ্তাহ আগে থেকেই লাইন ধরে সিরিয়াল নিতে হয়। এই সব সার্ভিস মানে সিরিয়াল নেওয়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ যদি অনলাইনের মাধ্যমে করানো যায় তাহলে সময়,অর্থ ও পরিশ্রম থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। অনেক সময় দামি,দরকারি ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতের নাগালে পাওয়া যায় না ফলে আমরা মুল্যবান সময় ও টাকা খরচ করতে বাধ্য হই। সুতরাং অনলাইনে অর্ডার করে ঘরে বসেই যদি মানুষ প্রয়োজনীয় ঔষধ,চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবাসমূহ পায় এবং যারা অনলাইনের বহির্ভুত তাদেরকে গ্রাম উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠবে চাঁদমামা ই-মেডিক্যাল সার্ভিস ফলে ভাল মানের আয় করা যাবে এই প্রজেক্ট দিয়ে।
চাঁদমামা ই-শপঃ 
দেশের যেকোন প্রান্তে বসে সকল ধরনের পণ্য,যেমনঃ কাপড়, গয়না, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স, খেলনা,কসমেটিক,   মোবাইলসহ যেকোন ধরনের পণ্য পাওয়া যাবে চাঁদমামার অনলাইন শপে। এমন কোন পন্য বাকি থাকবে না যে পণ্য খুজে পাবে না দেশের জনগণ উদাহরণ হিসেবে অ্যামাজন,ইবে,আলিবাব,ফ্লিপকার্ট ইত্যাদি এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে সকল ধরনের পন্য ও সেবা।  সারা বাংলাদেশে আমাদের কভারেজ থাকবে এবং আমাদের পণ্যের গুণাগুণ ভাল মানের থাকবে বিধায় সারা বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনগণ অনলাইনে ও অফলাইনে আমাদের ই-শপের পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী ও অব্যস্ত হয়ে যাবে। ফলে চাঁদমামা ই-শপ থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব। বাজারের চাইতে কম মূল্যে,গুণগতমান সম্পন্ন এবং ভেজালমুক্ত আসল পণ্য দেশের মানুষ ঘরে বসে অনলাইন কিংবা অফলাইনে অর্ডার করেই যদি হাতের কাছে পায় তাহলে চাঁদমামা ই-শপ হবে সবচাইতে লাভজনক প্রজেক্ট। চাঁদমামা ই-শপ বাজারের চাইতেও কম মূল্যে কিভাবে ভোক্তার কাছে পৌছাবে? আসলেই কি সম্ভব? এবার আসা যাক যেকোন পণ্যের খুচরা মূল্যের চাইতে পাইকারী মূল্য কম,কারণ কি? কারণ পণ্য উৎপাদনকারী্র কোন পণ্য উৎপাদনে ৩ টাকা খরচ হলে প্রচারণার জন্য খরচ করে আরো ৬ টাকা। ফলে উৎপাদনকারী ২ টাকা লাভে এজেন্টকে বিক্রয় করে ১১ টাকায়। বড় এজেন্ট থেকে মাঝারি ও ছোট এজেন্টদের হাত ঘুরে ডিলারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতার কাছে আসে ১৮ টাকায় ঐ পণ্য খুচরা বিক্রেতা বা দোকানদার ভোক্তাদের কাছে বিক্রয় করে ২০ টাকার বিনিময়ে। বাংলাদেশের সবচাইতে বেশী কভারেজ ও বেশী প্রচারক চাঁদমামাতে থাকবে তাই গ্রাহক সংখ্যাও সবচাইতে বেশী থাকবে এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু চাঁদমামার গ্রাহক বেশী থাকবে তাই উৎপাদনকারি থেকে সবচাইতে কম মূল্যে অর্থাৎ ১১ টাকা দিয়েই ২০ টাকা পণ্য কিনতে পারবে চাঁদমামা ই-শপ । এই পণ্য ভোক্তার কাছে ১৭ টাকা দিয়ে বিক্রয় করলে দেশের সকল ভোক্তা চাঁদমামা ই-শপের সার্ভিস নিতে বাধ্য। অন্যদিকে উৎপাদনকারীর চাইতেও ৩গুন বেশী লাভবান হবে চাঁদমামা ই-শপ প্রজেক্ট। আপনি কি চিন্তা করছেন? একটা পণ্যে উৎপাদনকারীর লাভ ২ টাকা আর চাঁদমামা ই-শপের লাভ ৬ টাকা এইটা কিভাবে সম্ভব? জী হ্যাঁ, আইডিয়া নিয়ে ব্যবসা করলে খুবই সহজ,যা একটা ছোট ছেলেকে বুঝালেও বুজবে। এটাই চাঁদমামার শক্তিশালী আইডিয়া যা সহজেই সফলতা নিয়ে আসবে। এই প্রজেক্ট দিয়ে সহজেই বুঝা যায় চাঁদমামা কিভাবে সকল ধরণের প্রজেক্ট থেকে বিপুল পরিমাণের সফলতা ও অর্থ আয় করবে।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ ই-শপ অনলাইন প্রজেক্ট হওয়াতে অনলাইনে গ্রাহক থাকবেই পাশাপাশি আমরা চাঁদ মামা ই-শপ সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে জানাবো। এবং নিয়মিত চাঁদমামা ই-শপের ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ লাইক শেয়ার করব। এতে খুবই কম সময়ে দেশের সকলের কাছেই পরিচিত হয়ে যাবে চাঁদমামা ই-শপ।
আয়ঃ যেহেতু এই প্রথম একটি অনলাইন শপে মানসম্মত ও কম মূল্যে সকল ধরনের পণ্য ঘরে বসেই পাবেন ১৭ কোটি মানুষ । তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পণ্য বিক্রয় করা যাবে ফলে মাসে প্রায় হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব চাঁদমামা ই-শপ থেকে।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ ই-শপের সফলতা নির্ভর করবে উদ্যোক্তাদের মৌখিক প্রচারণা বা মার্কেটিং এর উপর তাই সকল উদ্যোক্তার উপর ওরাল/মৌখিক মার্কেটিং ও ইংলিশ বেসিক এই ২ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামূলক।
অনলাইন মার্কেট প্লেস ব্যবসা সম্পর্কে ধারণাঃ  মার্কেট প্লেসের শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় মার্কেটের এমন স্থান যেখানে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই ক্রয় বিক্রয় করতে পারে অপরদিকে অনলাইন মার্কেট প্লেস বলতে বুঝায় অনলাইনে ক্রেতা বিক্রেতা পন্য বা সেবা ক্রয় বিক্রয় করা। অনলাইন মার্কেট প্লেস একটা সময় উপযোগী আইডিয়া যার গ্রহণযোগ্যতা বর্তমানে অনেক বেশি কারন অনলাইন মার্কেট প্লেসে আমরা নতুন পুরাতন সকল ধরণের পন্য নিজের ইচ্ছেমত ক্রয় বিক্রয় করতে পারি। মার্কেট প্লেস ছাড়া যদি কল্পনা করা হয় তাহলে আমাদের কোন পন্য বিক্রয় করতে অনেক সময় ও শ্রমের দরকার হত।পুর্বে আমাদের জরুরী অর্থের প্রয়োজনে কোন পণ্য বিক্রয় করতে চাইলেও অনেকদিন সময় লাগত কিন্তু বর্তমানে আমাদের সেই প্রয়োজনীয়তা টা মিটিয়ে দিচ্ছে সকল ধরনের অনলাইন মার্কেট প্লেস সমূহ। যেমনঃ বিক্রয়,এখানেই, ওএলক্স সহ অনেক মার্কেট প্লেস বর্তমানে দেশে ও বিদেশে বিদ্যমান। এসব মার্কেট প্লেস নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য মার্কেটিং বা প্রচার-প্রচারনায় কল্পনাতীত বা বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন। যেমন বিভিন্ন মিডিয়ায়,অনলাইনের বিভিন্ন সাইটে,পোস্টার,ব্যানার,বিলবোর্ড ইত্যাদি বিভিন্ন পন্থায় বিজ্ঞাপন ও জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করে থাকেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মার্কেট প্লেস বিক্রয় ডট কম ৩ বছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে শুধুমাত্র প্রচার-প্রচারনার জন্য কারণ তারা জানতেন এই আইডিয়া দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব এবং সেই রেজাল্টও এখন তারা পাচ্ছেন। মাসে তাদের আয় হচ্ছে প্রায় ১০-১২ কোটি টাকা। কিন্তু কিভাবে? বিক্রয় ডট কম বা মার্কেট প্লেস গুলোতে গ্রাহকরা ফ্রিতে নিজেদের যেকোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। সময়ের সাথে সাথে সেবা গ্রহণকারী অভ্যস্ত হতে থাকেন এবং গ্রাহক সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে মার্কেট প্লেস গুলোতে বিজ্ঞাপনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা বা সেবা চালু করেন মার্কেট প্লেস কর্তৃপক্ষ। বাড়তি সুবিধা বা সেবা নিতে হলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সার্ভিসচার্জ প্রদান করতে হয় গ্রাহকদের। বাড়তি সুবিধা বা সেবা বলতে কি বুঝায়? উদাহরণঃ আজ থেকে ১ বছর আগে আমি দেশের প্রচলিত মার্কেট প্লেসে আমার একটা পণ্য বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম ঐ বিজ্ঞাপন ২ দিন পর ছিল ৫০ নাম্বার সিরিয়ালে মানে ৪/৫ নং পেইজে মানে ২ দিনে আমার পরে আরো ৪৯ জন বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার ২ ঘন্টার মধ্যে ১০০ নাম্বার সিরিয়ালে চলে যায়। বিজ্ঞাপন বেশি হওয়ার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কতৃপক্ষ “পেইড সার্ভিস” চালু করেছেন। গ্রাহক চাইলে ফ্রিতেও বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন এবং নিজের বিজ্ঞাপন বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য “পেইড সার্ভিস” ও নিতে পারবেন। প্রতিনিয়ত প্রচুর গ্রাহক এই পেইড সার্ভিসের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন ফলে মোটা অংকের টাকা আয় করছেন বর্তমান মার্কেট প্লেস সমূহ।  
বেঁচেদেন ডট কমঃ
যেকোন ধরনের নতুন/পুরাতন পণ্য বিক্রয় করার জন্য চাঁদমামার অনলাইন মার্কেট প্লেস এর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে বেচেদেন ডট কম। বিশ্বের অন্যান্য অনলাইন মার্কেট প্লেস এর মতই কিন্তু আরো বেশি সহজে ব্যবহার যোগ্য,ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে সহজেই বা কম সময়ের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করতে পারে মত সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে বেচেদেন ডট কমে। দেশের অনলাইন ও অফলাইনে থাকা সবাই যাতে ব্যবহার করতে পারে সেরকম করেই বেচেদেন ডট কম তৈরি করা হচ্ছে যা অন্যান্য মার্কেট প্লেস থেকে অনেক বেশি আপডেট,আধুনিক ও যুগউপযোগী আইডিয়া সমম্লিত হবে ফলে সকল অনলাইন মার্কেট প্লেস এ মার্কেট লিডার হিসেবে থাকবে বেচেদেন ডট কম।
বেচেদেন ডট কমের আপডেট,আধুনিক ও যুগউপযোগী আইডিয়া বলতে কি বুঝানো হয়েছে? বেচেদেন ডট কমে ক্রেতা-বিক্রেতা গণ কোন বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর থেকেই যতজন ক্রেতা-বিক্রেতা উক্ত বিজ্ঞাপন গুলো দেখবে বা খুঁজবে,তাদের নোর্টিফিকেশন পন্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে অনলাইনে নিজের বেচেদেন একাউন্টে এবং অফলাইনে থাকলে মোবাইল নাম্বারে চলে যাবে। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই খুবই কম সময়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিক্রেতা ও ক্রেতা খুঁজে নিতে পারবেন। এই ভিন্নধর্মী আইডিয়ার প্রবর্তক চাঁদমামা যা বর্তমান অনলাইন মার্কেট প্লেস এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এতে করে সকল গ্রাহক বেচেদেন এর প্রতি আকৃষ্ট হবেন এবং বেচেদেন অল্প সময়ের মধ্যে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করবে।
বেচেদেন ডট কমের পেইড সার্ভিস গুলো  হলঃ  ১) ডেইলি আপডেট ২) পেইড অ্যাড
১)  “ডেইলি আপডেট” প্রোমোশন ব্যবহার করলে আপনার বিজ্ঞাপনটি ৭ দিনের জন্য নিয়মিতভাবে সাধারণ বিজ্ঞাপনের উপরে চলে যাবে। এটি প্রতিদিন বিজ্ঞাপন পোস্ট করার মতোই কার্যকর, কিন্তু এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে থাকে এবং ১০ গুণ বা তার বেশী ক্রেতার নজরে আসবে!
* “ডেইলি আপডেট” সিস্টেমে  বিজ্ঞাপনগুলিকে একটি নতুন বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশ করা হবে। এতে করে কোন রকম কষ্ট ছাড়া আপনার বিজ্ঞাপনটিকে আরও বেশী করে প্রদর্শন করার সুযোগ করে দিবে।
* বিজ্ঞাপনটি স্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে চলে আসবে যতক্ষণ না পরের “ডেইলি আপডেট” এর সময় আসে এবং এভাবে করে ৭ দিনের জন্যে পুনরাবৃত্তি করা হয়।
২) সকল বিজ্ঞাপনের প্রতি পেইজের উপরে “পেইড অ্যাড” এর জন্য ২ টি জায়গা বরাদ্ধ রয়েছে। আপনার বিজ্ঞাপন “পেইড অ্যাড” করার মাধ্যমে আপনি আপনার বিজ্ঞাপনটি ঐ স্থানগুলোর একটিতে প্রদর্শন করার সুযোগ পাচ্ছেন- যার ফলে ক্রেতারা আপনার বিজ্ঞাপনটি স্বাভাবিকের তুলনায় ২০ গুণ বা তার বেশী বার দেখেন!
* “পেইড অ্যাড” এর লক্ষণীয় বিষয় - এগুলো নিয়মিত বিজ্ঞাপনসমূহ থেকে বড়, হলুদ রঙে হাইলাইট করা থাকে, এবং সুস্পষ্টভাবে “পেইড অ্যাড” হিসেবে চিহ্নিত থাকে। 
* প্রত্যেকটি “পেইড অ্যাড” সমানভাবে “পেইড অ্যাড” এর জায়গাতে প্রচার করা হবে। যার মানে হাজার হাজার বাড়তি সুযোগ এনে দিচ্ছে প্রত্যেকটি “পেইড অ্যাড” এর জন্যে এবং এর মাধ্যমে ৭ দিনের জন্যে প্রতিদিন প্রত্যকটি “পেইড অ্যাড” প্রচার করা হবে আমাদের সর্বাধিক প্রদর্শিত পেইজ এ।
* “পেইড অ্যাড”তালিকাতে প্রচার করা ছাড়াও, আপনার বিজ্ঞাপনটিকে নিয়মিত বিজ্ঞাপন হিসেবেও প্রচার করা হবে। সুতরাং আপনি আপনার বিজ্ঞাপনটিকে ডেইলি আপডেট হিসেবে প্রচার করতে পারবেন।এই সার্ভিস গুলো খুবই কম পরিমাণ টাকা দিয়ে গ্রাহকরা নিতে পারবেন কিন্তু একই সময়ে অনেকবেশি  গ্রাহক এই সার্ভিস নিবে বিধায় প্রচুর টাকা আয় করা যাবে।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ অনলাইন মার্কেট প্লেস অনলাইন প্রজেক্ট হওয়াতে অনলাইনে গ্রাহক থাকবেই পাশাপাশি আমরা বেচেদেন ডট কম সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে জানাবো। এবং নিয়মিত বেচেদেন ডট কম ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ লাইক শেয়ার করব।




বেচেদেন ডট কম সফল হবে কিভাবে?
যেহেতু বেচেদেন ডট কম সকল মার্কেট প্লেস থেকে বেশী আকর্ষনীয় হবে এবং গ্রাহদের চাহিদা পূরণে ১ম পছন্দ হিসেবে থাকবে সেহেতু বেচেদেন ডট কমে ক্রেতা-বিক্রেতা অনেক বেশী প্রতিযোগিতা মুলক বিজ্ঞাপন দিবে এতে গ্রাহকগণ আমাদের পেইড সার্ভিস অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে সেবা বেশী বেশী গ্রহন করবে। অন্যদিকে বিভিন্ন কোম্পানী তাদের প্রচারণা মুলক বিজ্ঞাপন গুলো দিবে কারণ বেচেদেন ডট কমে সবচাইতে বেশী ভিজিটর থাকবে। আর আমরা জানি যে ওয়েবসাইটের ভিজিটর বেশী সেই ওয়েব সাইট র‍্যাংকিং এ এক নাম্বার,আর শীর্ষস্থানীয় ওয়েবসাইট গুলোতে বিভিন্ন কোম্পানী বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী। 
আয়ঃ বর্তমানে যে সকল অনলাইন মার্কেট প্লেস ভাল অবস্থানে আছে তাদের প্রতিমাসে আয় হয় প্রায় ১০-১২ কোটি টাকা সে হিসেবে আমাদের চাঁদমামার অনলাইন মার্কেট প্লেস বেচেদেন ডট কমের নতুনত্ব এবং সারা বাংলাদেশের প্রতি গ্রামের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে প্রচারণার কারনে বেচেদেন ডট কমের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশী হবে । ফলে বেচেদেন ডট কমের আয় ২০-২২ কোটি টাকা হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই না।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ বেচেদেন ডট কমের সফলতা নির্ভর করবে উদ্যোক্তাদের মৌখিক প্রচারণা বা মার্কেটিং এর উপর তাই সকল উদ্যোক্তার উপর ওরাল/মৌখিক মার্কেটিং ও ইংলিশ বেসিক এই ২ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামূলক। 
অনলাইন ফুড সার্ভিসঃ ঘরে বা অফিসে বসে অনলাইনে ও মোবাইল ফোনে অর্ডার করে যেকোন হোটেল রেস্টুরেন্টের  প্রছন্দনীয় খাবার মুহুর্তের মধ্যেই পাওয়ার সুবিধাকে অনলাইন ফুড সার্ভিস বলা হয়। যা বর্তমানে সারা বিশ্ব ব্যাপী খুবই প্রচলিত। যেমন-ফুডফান্ডা,হাংরীনাকি। আমাদের দেশেও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এই সার্ভিস খুবই দ্রুত জনগণের চাহিদায় পরিণত হচ্ছে। 
চাঁদমামা ই-ফুড সার্ভিসঃ অন্যান্য অনলাইন ফুড সার্ভিসের মত চাঁদমামা ই-ফুড প্রজেক্ট চালু করা হবে। এই প্রজেক্টেও নতুনত্ব থাকবে এবং সারাদেশে আমাদের কভারেজ থাকবে বিধায় যেকোন স্থানে আমরা ফুড ডেলিভারি দিতে সক্ষম হব যা অন্য কোন ই-ফুড সার্ভিস কোম্পানী দিতে পারে না। এতে খুবই কম সময়ের মধ্যে চাঁদমামা ই-ফুড সার্ভিস মার্কেটে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে এবং আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধিপাবে।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ ই-ফুড অনলাইন প্রজেক্ট হওয়াতে অনলাইনে গ্রাহক থাকবেই পাশাপাশি আমরা ই-ফুড সার্ভিস সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে জানাবো। এবং নিয়মিত চাঁদমামা ই-ফুডের ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ লাইক শেয়ার করব।
আয়ঃ আমারা সবাই জানি খাবার ব্যবসায় লাভের পরিমাণ ৪০-৫০% হয়ে থাকে তাই বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার মাধ্যমে হোটেল মালিক থেকে খাবার মুল্যের উপর ২০-২৫% পর্যন্ত চাঁদমামা ই-ফুড সার্ভিস নিতে পারবে। শুধু অর্ডারকৃত খাবার মানুষের কাছে পৌছানোর মাধ্যমে চাঁদমামা ই-ফুড সার্ভিস প্রচুর পরিমাণ আয় করতে পারবে। 
অনলাইন জব সাইটঃ বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা গুলোর মধ্যে বর্তমানে বেকার সমস্যা অন্যতম।দিন দিন বেকার যুবকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু সেই পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না ফলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেঁড়েই চলছে। প্রতিটা চাকরির পোস্টের জন্য বেশ কয়েকগুণ আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছে।অন্যদিকে চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠান গুলো নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি জামেলার সম্মুখীন হচ্ছে। চাকরি প্রার্থীদের ও চাকরি দাতাদের উভয়ের সুবিধার্থে অনলাইন জব সাইট একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রজেক্ট। অনলাইন জব ওয়েবসাইটে সকল চাকরি দাতা কোম্পানী গুলো তাদের চাহিদা অনুসারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা পোস্ট করেন অন্যদিকে সকল চাকরিপ্রার্থী তাদের জীবন বৃত্তান্ত বা বায়োডাটা আপলোড করে রাখেন। এতে চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী উভয়ে উভয়কে পছন্দ অনুযায়ী খুজে নিতে পারেন সহজেই। উদাহরণঃ বিডিজবস,এভারজবস ইত্যাদি । এই প্রজেক্টেও 
চাঁদমামা অনলাইন জব সাইটঃ বর্তমানে অনলাইন জবসাইটের চাহিদা প্রচুর।এই চাহিদাকে মাথায় রেখে চাঁদমামা নিজস্ব কিছু ভিন্নধর্মী আইডিয়া সহকারে শীগ্রই চালু করতে যাচ্ছে চাঁদমামা জবসাইট। চাঁদমামার ভিন্নধর্মী আইডিয়া চাকরিদাতা ও চাকরিগ্রহীতা এক অপরকে সার্চ করলেই চাকরিদাতা ও চাকরিগ্রহীতার অনলাইনে এবং অফলাইনে (মোবাইল এসএমএস) নোটিফিকেশন পাবেন। ফলে বর্তমানের চাইতেও ১০গুণ কম সময়ের মধ্যে উভয়ই নিজেদের পছন্দ অনুসারে এক অপরকে খুঁজে নিতে পারবেন। এই সিস্টেমটির কারণে বর্তমানে প্রচলিত সকল জবসাইটের  জনপ্রিয়তাকে হার মানিয়ে শীর্ষে নিয়ে যাবে চাঁদমামা অনলাইন জব সাইটকে। ফলে চাঁদমামা জব সাইটে সবচাইতে বেশী চাকরিদাতা এবং চাকরিপ্রার্থী থাকবে কারণ বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামের প্রতিষ্ঠান ও বেকার যুবক চাঁদমামার জব সাইট সম্পর্কে জানতে পারবেন আমাদের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমের প্রচারণায়। যেহেতু এই সাইটে অনেকবেশী ভিজিটর থাকবে সেহেতু বিভিন্ন পন্য ও সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন দিবেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা কোম্পানী ও চাকরি প্রার্থীগণ খুবই সহজে তাদের চাহিদা মিঠাতে পারবেন বিঁধায় নুন্যতম একটা সার্ভিস চার্জ ও দিতে প্রস্তুত থাকবেন। এই দুই ধরণের আয় দিয়ে চাঁদমামা জবসাইট প্রচুর লাভবান হবে।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ উদ্যোক্তাগণ নিজ নিজ এলাকার চাকরিদাতা এবং চাকরিপ্রার্থীদের কাছে নিজেদের জবসাইটের সুযোগ সুবিধা সমূহ জানাবেন এবং অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে লাইক শেয়ার করে প্রতিদিন সকল অনলাইন ব্যবহারকারীদেরকে চাঁদমামা জবসাইট পরিচিত করাবেন।
আয়ঃ এই জব সাইট থেকে মাসে প্রায় ৫-৬ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ এই প্রজেক্ট সফল করার জন্য সকল উদ্যোক্তাদের অনলাইন বেসিক কোর্স,ওরাল বা মৌখিক মার্কেটিং কোর্স ও ইংলিশ বেসিক কোর্স  করা একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামূলক। 
অনলাইন অ্যাডভারটাইজিং ফার্ম বা চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্মঃ অনলাইন ভিত্তিক সাইটগুলোর আয়ের অন্যতম মাধ্যম হল অ্যাড/বিজ্ঞাপন । আমাদের দেশে বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তিতে এবং অনলাইন সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সেক্টরের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। দিন দিন আমাদের দেশে প্রতিটা পন্য বা সেবা অনলাইন প্রজেক্ট হিসেবে রূপ নিচ্ছে ফলে দেশে প্রচুর ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। এসব অনলাইন প্রজেক্ট গুলোতে ভিজিটর বা গ্রাহক থাকে,এসব ভিজিটরের কাছে নিজেদের পণ্য বা সেবা পরিচিত করানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন গুলো ওয়েবসাইটে দিতে চায়। কিন্তু বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানীর সাথে বিজ্ঞাপন গ্রহীতা ওয়েবসাইটের মালিকের মধ্যে সংযোগ না থাকাতে উভয়েই সুবিধা বঞ্চিত হয়। এই চাহিদা বা প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে চাঁদমামা শুরু করতে যাচ্ছে চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্ম। এই প্রজেক্টের কাজ হল সকল বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানীর বিজ্ঞাপন গুলো সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন পণ্য বা সেবা ভিত্তিক অনলাইন প্রজেক্টে বা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন গুলো প্রচার করা। বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানী গুলো তাদের বিজ্ঞাপন যত জন ভিজিটরকে দেখাবে সেই হিসেব করেই চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্মকে টাকা অগ্রিম দিয়ে দিবে অন্যদিকে ই-অ্যাড ফার্ম বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন গুলো দেওয়ার জন্য ওয়েবসাইট মালিককে প্রদান করবে। ওয়েবসাইটে যত দর্শক বা ভিজিটর বিজ্ঞাপন গুলো দেখবে তা পরিমাপের পদ্ধতি আছে যা চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্ম ও বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানী উভয়েই দেখতে পারবেন। ভিজিটর সংখ্যা হিসেব করে চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্ম বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানী থেকে গৃহীত টাকা থেকে একটা অংশ রেখে বাকিটা ওয়েবসাইট মালিককে প্রদান করবে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমরা যে বিজ্ঞাপন গুলো দেখি তা গুগলের মাধ্যমে দেওয়া হয় কিন্তু গুগুল বাংলা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেয় না এবং গুগুলকে পেমেন্ট করাও অনেক ঝামেলাপুর্ণ ও কষ্টসাধ্য। অন্যদিকে চাঁদমামা বাংলাদেশ ভিত্তিক এই সার্ভিস দিবে বিঁধায় বাংলা ইংরেজি সকল ওয়েবসাইটে খুবই সহজে ও কম খরচে বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানী গুলো বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। ফলে দেশের সকল বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানী গুলো চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্মের উপর নির্ভরশীল হবেন। গুগল এডসেন্স বা গুগলের কার্যক্রমকে  বাংলাদেশ ভিত্তিক কল্পনা করলে যেই রূপ ধারন করবে, সেই রূপটাই হল চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্ম।এই প্রজেক্টের সফলতা এবং আয় অনেক বেশী।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ উদ্যোক্তাগণ নিজ নিজ এলাকার বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানী এবং ওয়েবসাইট মালিকের কাছে নিজেদের চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্মের সুযোগ সুবিধা সমূহ জানাবেন এবং অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে লাইক শেয়ার করে প্রতিদিন সকল অনলাইন ব্যবহারকারীদেরকে চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্ম পরিচিত করাবেন।
আয়ঃ চাঁদমামা ই-অ্যাড ফার্ম থেকে মাসে প্রায় ৫০-৮০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। 
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ এই প্রজেক্ট সফল করার জন্য সকল উদ্যোক্তাদের অনলাইন বেসিক কোর্স,ওরাল বা মৌখিক মার্কেটিং কোর্স ও ইংলিশ বেসিক কোর্স করা বাধ্যতামূলক।
চাঁদমামা ই-কুরিয়ারঃ আমরা সবাই কুরিয়ার সার্ভিস সম্পর্কে কম বেশী জানি। যে সকল প্রতিষ্ঠান আমাদের মূল্যবান পণ্য বা টাকা আমাদের দেওয়া ঠিকানায় পৌছে দেয় সেই সকল প্রতিষ্ঠানকে কুরিয়ার সার্ভিস বলা হয়। এই সার্ভিস আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় অনেক বেশী প্রয়োজন । এই প্রজেক্ট অনেক বেশী লাভজনক হওয়া স্বত্বেও বর্তমান কুরিয়ার সার্ভিস গুলো কভারেজের অভাবে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী যথাযথ সার্ভিস দিতে অপারগ। এই কারণে চাঁদমামা এই প্রথম সারা বাংলাদেশে একসাথে সবচাইতে বেশী কভারেজ সহকারে অনলাইনের মাধ্যমে শুরু করতে যাচ্ছে চাঁদমামা ই-কুরিয়ার সার্ভিস। কুরিয়ার সার্ভিসকে আরো অত্যাধুনিক ও নতুনমাত্রা যোগ করে কুরিয়ার জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তণ নিয়ে জনগণের কাছে হাজির হবে চাঁদমামা ই-কুরিয়ার। আপনি ঘরে,অফিসে বা যেকোন স্থান থেকেই আপনার পণ্য/পার্সেল সমূহ আপনার কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পাঠাতে পারবেন চাঁদমামা ই-কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ফলে আপনার  শ্রম,গুরুত্বপুর্ণ সময় এবং টাকা সাশ্রয়ী হবে। কিন্তু কিভাবে? চাঁদমামা ই-কুরিয়ার অনলাইন সাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে আপনি নিজের ঠিকানা ও পণ্য/পার্সেলের বর্ণনা দিবেন,আমাদের প্রতি গ্রামে নিয়োগকৃত কুরিয়ার কর্মী সাথে সাথে আপনার ঠিকানায় পৌছে যাবে এবং পন্য/পার্সেল বুঝে নিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এই সার্ভিস আমাদের সকলের জীবনযাত্রার মান আরো সুন্দর,সহজ ও উন্নত করে দিবে।
উদ্যোক্তাদের কাজঃ উদ্যোক্তাগণ নিজ নিজ এলাকায় পরিচিত ও বিশ্বস্ত কুরিয়ার কর্মী নিয়োগ দিবেন। উদ্যোক্তাগণ চাঁদমামা ই-কুরিয়ার প্রজেক্টের সুযোগ সুবিধা সমূহ গ্রামবাসীকে জানাবেন এবং অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে লাইক শেয়ার করে প্রতিদিন সকল অনলাইন ব্যবহারকারীদেরকে চাঁদমামা ই-কুরিয়ার প্রজেক্ট পরিচিত করাবেন।
আয়ঃ চাঁদমামা ই-কুরিয়ার প্রজেক্ট থেকে মাসে প্রায় ৫০-৮০ কোটি টাকা আয় করা খুবই সহজ। কারণ সারাদেশের সবচাইতে বেশী পার্সেল সার্ভিসের অর্ডার আসবে চাঁদমামা ই-কুরিয়ার প্রজেক্টে ।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ এই প্রজেক্ট সফল করার জন্য সকল উদ্যোক্তাদের অনলাইন বেসিক কোর্স,ওরাল বা মৌখিক মার্কেটিং কোর্স ও ইংলিশ বেসিক কোর্স করা একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামূলক। 
চাঁদমামা স্টার্টআপ হেল্পিং প্রোগ্রামঃ উদ্যোক্তাদের ভিন্নধর্মী আইডিয়াকে বা পণ্যকে বাস্তবায়ন ও মার্কেটজাত করার জন্য যে প্লাটফ্রম বিনিয়োগ কারী এবং উদ্যোক্তার মধ্যে সংযোগ সাধন করে সেইসব প্লাটফ্রমকে স্টার্টআপ হেল্পিং প্রোগ্রাম বলা হয়। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ প্রোগ্রাম গুলো ফান্ডরাইজ/মূলধন সংগ্রহ  বা ফান্ডিং করার মাধ্যমে অনেক বেশী পজিটিভ প্রভাব ফেলে,যার কারণে সেই সব দেশগুলোতে বেকার সমস্যা খুবই কম এবং দেশ ও জাতির জীবন যাত্রার মান অনেক বেশী উন্নত। চাঁদমামা উদ্যোক্তাদের আইডিয়া গুলোতে যেমন ফান্ডিং করবে তেমনি বাংলাদেশের সকল উদ্যোক্তাদেরকেও সুযোগ প্রদান করার জন্য বিনিয়োগকারীদের সাথে সংযোগস্থাপন করে দিবে ফলে দেশে উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে এবং বেকার সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।এই প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশের বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট সকল ধরনের সমস্যা সমাধান হবে,মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে এবং দেশ ও জাতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বাস্তবধর্মী আইডিয়া এবং উদ্যোক্তা এই দুইটা বিষয়ের উপর পৃথিবীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল তাই চাঁদমামা স্টার্টআপ হেল্পিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশের সকল বাস্তবধর্মী আইডিয়াকে বিনিয়োগ করলে অনেক বেশী লাভবান হওয়া যাবে। কারণ আইডিয়া ভিত্তিক ব্যবসা গুলোতে খুবই কম সময়ে অনেক বেশী পরিমাণের আয় করা সম্ভব। যেমন মোবাইল মানি একটা আইডিয়া অল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে ৩-৪ বছরে যে পরিমাণ আয় করছে তা কয়েকটা ব্যাংকের আয়ের সমান। তাই বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের আইডিয়াতে চাঁদমামা বিনিয়োগ করলে উদ্যোক্তা ও স্বাবলম্বী হবেন এবং চাঁদমামা স্টার্টআপ হেল্পিং প্রোগ্রামও মোটা অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবে।
চাঁদমামা পণ্য শিল্প গড়ে তোলাঃ সব ধরণের প্রজেক্টের সফলতার পরে চাঁদমামা নিজস্ব বিনিয়োগের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল ধরণের পণ্য শিল্প গড়ে তূলতে পারবে। পণ্য উৎপাদন শিল্পের লাভের পরিমাণ সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশী ধারণা রাখি। আপনাদের জন্য আরো কিছু ধারণা দিব। আপনারা অনেকেই জানেন কোমল পানীয় পেপসি সারা পৃথিবীর জনপ্রিয় একটা ব্র্যান্ড। এই জনপ্রিয়তার পিছনে প্রচুর সময় এবং বিজ্ঞাপন খরচ বিনিয়োগ করতে হয়েছে পেপসি কোম্পানীকে। ১২ টাকা মূল্যের বোতলজাত কোমল পানীয় তৈরিতে পেপসি কোম্পানী খরচ করে শুধুমাত্র ৭০ পয়সা। এই ক্ষেত্রে আরো প্রায় ১০ টাকার মত খরচ করতে হয় বিজ্ঞাপনে ও মধ্যস্বত্ব ভোগীদের জন্য। বাকি ১.৩০ টাকা কোম্পানীর লাভ হিসেবে থাকলেও মাসে হাজার কোটি টাকা লাভ থাকে। একইভাবে ২০ টাকার সুগন্ধি সাবান তৈরিতে লাক্স বা অন্য সুগন্ধি সাবান কোম্পানীর খরচ হয় ৩-৪ টাকার মত। প্রতি সাবানের জন্য বিজ্ঞাপন খরচ ধরা হয় ৫-৬ টাকার মত। অর্থাৎ সর্বমোট ৯-১০ টাকার মত খরচ করার পরে কোম্পানী সাবান মার্কেটজাত করে থাকেন। প্রতি সাবানে উৎপাদন কোম্পানী ১.৫০-২ টাকা লাভ করে বড় এজেন্টদের কাছে ১১.৫০-১২ টাকায় বিক্রয় করে থাকেন। বড় এজেন্ট থেকে মাঝারী ও ছোট এজেন্টের হাত বদলের পরে ডিলার,সাব ডিলার ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের মত মধ্যস্বত্ব ভোগীদের হাত বদলের পরে খুচরা বিক্রেতা বা দোকানদার ১৮.৫০-১৯ টাকায় সাবান ক্রয় করেন এবং আমাদের কাছে ২০ টাকায় বিক্রয় করেন। এই ভাবে কম উৎপাদন খরচের পরেও নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যই আমাদেরকে ক্রয় করতে হয় কয়েকগুণ বেশী মূল্য দিয়ে। চাঁদমামা যদি এই সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন করে তাহলে লাভের পরিমাণ হিসেব করলেই যেকোন কেউ বুঝতে পারবেন আমাদের ভবিষ্যৎ কত উজ্জ্বল ও সম্ভাবনা ময়। ধরি আমরাও চাঁদমামা সুগন্ধি সাবান উৎপাদন করে মার্কেটজাত করব। এক্ষেত্রে অন্যান্য উৎপাদনকারীর চাইতেও বেশী গুণগত মানসম্পন্ন করলে আমাদের উৎপাদন খরচ হবে ৫ টাকা। যেহেতু চাঁদমামার ১ লক্ষ উদ্যোক্তা প্রতিটা গ্রামেই প্রচারক হিসেবে থাকব সেইক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন খরচ এবং মধ্যস্বত্ব ভোগীদের খরচ বিনিয়োগ করতে হবে না। যদি খুচরা দোকানদারের কাছে ১৬ টাকায় বিক্রয় করি তাহলে দোকানদার ২ টাকা লাভের মাধ্যমে ১৮ টাকায় ভোক্তাদের কাছে বিক্রয় করবে,এতে ভোক্তারা বাজারের অন্যান্য সুগন্ধি সাবান থেকে কম মুল্যে ও সবচাইতে বেশী গুণগত মান সম্পন্ন চাঁদমামা সাবান ক্রয় করতে পারবে। ফলে এই পণ্য সবার কাছে অনেক বেশী জনপ্রিয় হবে ও বিক্রয় বাড়বে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ ৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১৬ টাকা হলে প্রতিটা সাবানে চাঁদমামা কোম্পানীর লাভ থাকবে প্রায় ১১ টাকা যা বর্তমান বিশ্বের সকল পণ্য উৎপাদনশীল কোম্পানীর কাছে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। এবং একইভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যে চাঁদমামা পণ্য শিল্প প্রচুর পরিমাণে আয় করতে পারবে। 
উদ্যোক্তাদের কাজঃ উদ্যোক্তাগণ নিজ নিজ এলাকায় চাঁদ মামা পণ্যশিল্পের প্রতিটা পণ্যের গুণগত মান ও সাশ্রয়ী মুল্য  সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে জানাবে। নিজের কোম্পানী দ্বারা উৎপাদিত পণ্য পরিবারসহ নিজে ব্যবহার করবে।এবং প্রতি গ্রামের দোকানদারদের অর্ডার গুলো অনলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করবে। 
আয়ঃ যেহেতু এই প্রথম একটি পণ্যশিল্পে গুণগত মান সম্পন্ন ও কম মূল্যে সকল ধরনের পণ্য পাবেন ১৭ কোটি মানুষ। তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পণ্য বিক্রয় করা যাবে ফলে মাসে প্রায় হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব চাঁদমামা পণ্যশিল্প থেকে।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণঃ পণ্যশিল্পের সফলতা নির্ভর করবে উদ্যোক্তাদের মৌখিক প্রচারণা বা মার্কেটিং এর উপর তাই সকল উদ্যোক্তার উপর ওরাল/মৌখিক মার্কেটিং ও ইংলিশ বেসিক এই ২ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন ও বাধ্যতামূলক।
সামাজিক কাজঃ    
          “আর্তির থালা তসবীর মালা,লাগিবে না কোন কাজে
          মানুষ করিবে মানুষের সেবা,আর যত সব বাজে।” - কাজী নজরুল ইসলাম মানুষ সামাজিক জীব এবং মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার সৃষ্ট শ্রেষ্ট জীব।আমরা সবাই জানি মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। মানুষের তরে মানুষের সহায়তার হাত বাড়ানোকে সামাজিক কাজ বলা হয়।বর্তমান বিশ্বে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বসবাস করতে হলে মানুষকে অবশ্যই সামাজিক কাজ করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যেই সামাজিক কাজের প্রতি দুর্বলতা দেখা যায়। বাংলাদেশেও প্রচুর সামাজিক সংগঠন রয়েছে, চাঁদমামা এইসব সামাজিক সংগঠনকে সাথে নিয়ে সামাজিক সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য কাজ করবে। এতে দেশ ও জাতির উন্নয়ণ হবে।
রক্তদিন ডট কমঃ রক্ত কৃত্তিমভাবে তৈরী করা যায় না, শুধুমাত্র একজন মানুষই পারে আরেকজন মানুষকে বাঁচাতে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, প্রতিবছর বহুসংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে জরুরি মুহুর্তে প্রয়োজনীয় রক্তের অভাবে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর রক্তের প্রয়োজন মাত্র ৯ লাখ ব্যাগ। অথচ জনবহুল এই দেশে এখনো মানুষ মারা যাচ্ছে রক্তের অভাবে। রক্তের এই চাহিদা খুব সহজেই পূরণ করা সম্ভব হবে যদি আমাদের দেশের সকল প্রান্তের পূর্ণবয়স্ক মানুষদের রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা এবং সুফলতা বুঝিয়ে সচেতন করা যায়। আমাদের সামান্য সহায়তামূলক দৃষ্টিভঙ্গীর মাধ্যমেই অকাল মৃত্যু থেকে বেঁচে যাবে অনেক প্রাণ। আপনার দানকৃত রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাবে। রক্তদানের জন্য এর থেকে বড় কারণ আর কি হতে পারে ! আমাদের প্রতিটা গ্রাম ওয়েবসাইটে “রক্তদাতা” নামের একটা ক্যাটাগরি রয়েছে যেখানে ঐ গ্রামের সকল রক্তদাতা তাদের নাম,নাম্বার ও রক্তের গ্রুপ লিপিবদ্ধ করতে পারবেন, প্রতিগ্রাম থেকে ১০জন করেও যদি  রক্তদাতা পাওয়া যায় তাহলে সারা বাংলাদেশের প্রায় ১০ লক্ষ রক্তদাতার তথ্য থাকবে চাঁদমামার সামাজিক কার্যক্রম মূলক সাইট রক্তদিন ডট কমে। এতে আপনার রক্তের প্রয়োজনে যেকোন মুহূর্তে,যেকোন স্থানেই আপনি রক্ত পাবেন। একজন মুমূর্ষু রোগীকে তার প্রিয়জনের মাঝে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনা থেকে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। জরুরি রক্তের প্রয়োজনে মুমূর্ষু রোগীদের পাশে থাকুন। যারা রক্তদানে ইচ্ছুক, দয়া করে রক্তদিন ডট কমে রক্তদাতা হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করুন। জরুরি রক্তের প্রয়োজনে রোগীরাই আপনাকে খুঁজে নিবে।
পথশিশুদের পুনর্বাসনঃ যাদের মা বাবা নাই বা থাকলেও অভাবের কারণে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদেরকে পথশিশু বা সুবিধা বঞ্চিত শিশু বলা হয়। পথশিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং অন্নবস্ত্র থেকেও বঞ্চিত। তাদের জীবন যে কত দুর্বিসহ তা বর্নণা করার ভাষা নাই। এই দুর্বিসহ জীবন তাদেরকে করে তূলে হিংস্র ও অপরাধী। তাদের কোন পিছুটান না থাকার কারণে তারা অসহায়। তাই তারা অল্প টাকার বিনিময়ে অনেক বড় অপরাধও সংঘটিত করে থাকে। চাঁদমামার সামাজিক কাজের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্তপুর্ন উদ্যোগ হল পথশিশুদের পুনর্বাসন কারণ আমাদের দেশের ৭০-৮০% অপরাধ সংঘটিত হয় পথশিশুদের মাধ্যমে। আমরা মনে করি নিজেরা ভালভাবে আয় রোজগার করে নিজেদের বা নিজের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখলেই নিজের এবং সন্তানের ভবিষ্যত সুন্দর হবে, কিন্তু দেশের চলাফেরার পরিবেশ এবং জীবনের নিশ্চয়তা যদি ঠিক না থাকে তাহলে আর এইসব ভবিষ্যৎ চিন্তার কোন মানে হয় না। তাই আমাদের সমাজকে অপরাধ, খুন, ধর্ষন, গুম, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি,হাইজ্যাকিং,এসিড সন্ত্রাস,মাদক এবং নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এসব অপরাধ যাদের দ্বারা সংঘটিত হয় অর্থাৎ পথশিশুদেরকে পুনর্বাসন করতেই হবে। দেশের প্রতিটি জেলাতে পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনার মাধ্যমে ঐ জেলার সকল পথশিশুদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এই ৫টি মৌলিক অধিকার নিচ্ছিত করবে চাঁদমামা। আর আপনি আমি সকলেই এই মহৎ কাজের অংশীদার হব একমাত্র চাঁদমামার মাধ্যমে।
গরীব মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থাঃ আমাদের দেশে দরিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী অনেক মেয়ে আছে যাদের বিয়ে দেওয়ার কথাও চিন্তা করার কেউ থাকে না। আপনার আমার এক টাকা দিয়ে এইসব গরীব মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা যাবে,আপনি অবাক হয়ে বলবেন এক টাকা দিয়ে কিভাবে বিয়ে দেয়া সম্ভব??? উত্তরঃ হ্যাঁ,সম্ভব।কারণ আপনি,আমি মানেই চাঁদমামা আর চাঁদমামা মানে ১ লক্ষ উদ্যোক্তা। ১ লক্ষ উদ্যোক্তা ১ টাকা করে দিলেই ১ লক্ষ টাকা হয়,যা দিয়ে প্রতিদিন একটা করে মেয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে। 
এই উদাহরণ থেকেই আপনি বুঝে নিতে পারবেন আমাদের চাঁদমামা দিয়ে কোন কাজই অসম্ভব না।
পরিবেশ রক্ষাঃ বর্তমান আধুনিক যুগে সবচাইতে চিন্তার ও উদ্ধেগের বিষয় হল জলবায়ু পরিবর্তন। পরিবেশ রক্ষা বা জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই প্রদক্ষেপ না নিলে এই পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। তাই দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছ রোপন থেকে শুরু করে সকল ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাঁদমামা গুরুত্ব পুর্ণ ভুমিকা রাখবে।
জনসচেতনতা মূলক কাজঃ  অসচেতনতাই একটা সমাজ বা জাতি ধ্বংস হতে পারে। সচেতনতাই পারে কুসংস্কারমুক্ত সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়তে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি,বাল্য ও বহুবিবাহ,এসিড সন্ত্রাস,মাদক,মহামারী,নৈতিক অবক্ষয় ইত্যাদি  অনেক সামাজিক সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হল জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। চাঁদমামা প্রতিটা গ্রামের মালিক/প্রতিনিধির মাধ্যমে সারাদেশের যেকোন ধরনের সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
চাঁদমামার ভিন্নধর্মী আইডিয়া গুলো নিচে দেওয়া হলঃ-
* ১ লক্ষ তরুন উদ্যোক্তা এবং প্লাটফ্রম ।
বাংলাদেশে বর্তমানে সব চাইতে বড় সমস্যার মধ্যে অন্যতম হল বেকার সমস্যা। আর একটা দেশের উন্নয়নে সব চাইতে বড় বাধা হল বেকার সমস্যা। কারণ দেশের জনশক্তি কাজ না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। আর বেসরকারি উদ্যোগ বা উদ্যোক্তারা এগিয়ে না আসলে সরকারের একার পক্ষে সবার জন্য কর্মসংস্থান করা সম্ভব না । উন্নত বিশ্বে উদ্যোক্তাদের জন্য প্লাটফ্রম থাকে যাতে যেকোন কেউ সহজেই উদ্যোক্তা হতে পারে কিন্তু আমাদের দেশে সেই সুবিধা বা প্লাটফ্রম নাই বললেই চলে। তাই বাংলাদেশের তরুণ ছাত্র ছাত্রীদের জন্য চাঁদ মামা একটা প্লাটফ্রম হিসেবে কাজ করবে। আর ১ লক্ষ তরুন উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে যেকোন ধরনের প্রজেক্ট সফল করা খুবই সহজ একটা কাজ। আর সেই কাজটাই করছে চাঁদ মামা যা চাঁদ মামার একটা ভিন্নধর্মী আইডিয়া।
* সমগ্র বাংলাদেশ কভারেজ।
কভারেজ শব্দটার মধ্যে অনেক বেশি গুরুত্ব পুর্ন অর্থ বা সমাধান লুকিয়ে আছে। এই পৃথিবীর যেকোন ব্যবসার উন্নয়ন নির্ভর করে ব্যবসার কভারেজের উপর। যার ব্যবসার কভারেজ বেশি তার গ্রাহকও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক । কভারেজ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটা কোম্পানির সবচাইতে বেশি খরচ হয় প্রচারণা বা মার্ক্টেটিং সেক্টরে । কারণ প্রচারই প্রসার এই কথাটা ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্ব পুর্ণ মন্ত্র। প্রতিটা পণ্যের উৎপাদন খরচের চাইতে কয়েকগুণ বেশি খরচ করা হয় প্রচারণায় ফলে পণ্যের গুণাগুণও কমাতে বাধ্য হয় এবং দামও অনেক বেশি রাখতে হয় মালিক পক্ষের । অন্যদিকে চাঁদ মামাতে বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে ১জন করে মোট ১ লক্ষ মালিক নিজেরাই প্রচারক হিসেবে কাজ করবে ফলে ১০০% কভারেজ এর সাথে সাথে ১৭ কোটি জনগণই চাঁদ মামার ভোক্তা হিসেবে চাঁদ মামার সেবা এবং পন্য গ্রহন করবে। এতে চাঁদ মামার প্রতিটা প্রজেক্ট খুবই কম সময়ে সফলতা পাবে এবং অনেকগুণ বেশি লাভের মুখ দেখবে।
* পার্টটাইম কাজ কিন্তু আয় হবে ফুলটাইম এর সমান এবং আজীবন।
চাঁদ মামার ১ লক্ষ উদ্যোক্তা সবাই নিয়মিত ছাত্রছাত্রী। উদ্যোক্তাগণ পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ করার মাধ্যমে সকল ধরণের প্রজেক্ট সফল করতে পারবে। যেহেতু সকল উদ্যোক্তা চাঁদ মামার মালিক হিসেবে থাকবে তাই সকল প্রজেক্টের আয় ভোগ করতে পারবে এবং দিন দিন প্রজেক্ট আয় বাড়বে যা আজীবন সকলের জন্য একটা নিচ্ছিত আয় হিসেবে ভুমিকা রাখবে।
* একটি গ্রাম,একজন উদ্যোক্তা,একটা ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রাম,ইউনিয়ন,উপজেলা,জেলা এবং বিভাগের নামে একটা করে ওয়েবসাইট দেওয়া হবে। প্রতিটা ওয়েবসাইটের এডমিন প্যানেল থাকবে ঐ গ্রামের উদ্যোক্তার হাতে। একটি গ্রামে সাধারণত ২০০০-৩০০০ জন লোক বসবাস করে,প্রতিটা গ্রামে চাঁদ মামার একজন করে উদ্যোক্তা থাকবে যার হাতে থাকবে ঐ গ্রামের নামে একটা ওয়েবসাইট। প্রতিটা ওয়েবসাইটের সকল ধরনের সেবা বা পণ্য গ্রামবাসীর কাছে পৌছে দিবেন উদ্যোক্তাগণ। ফলে বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনগণের কাছে অতি অল্প সময়ে এবং খুবই সহজে চাঁদ মামার সকল প্রজেক্ট বা সেবা সমুহ পৌছে দেয়া সম্ভব।
* সব উদ্যোক্তাই শিক্ষিত এবং দক্ষ থাকবে কারণ ৫ বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাধ্যতা মুলক।
চাঁদ মামার উদ্যোক্তা হতে হলে অবশ্যই এসএসসি পাশ হতে হবে ফলে সকল উদ্যোক্তাই শিক্ষিত। এই নিয়মটি বাধ্যতা মূলক করার কারন হচ্ছে ভবিষ্যতে চাঁদ মামার কোন উদ্যোক্তাকে যাতে উনাদের যোগ্যতা/দক্ষতা প্রমানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয়। যে ৫টি বিষয়ের প্রশিক্ষনের কথা বলা হচ্ছে সে ৫টি বিষয় চাঁদ মামার সকল প্রজেক্টের সাথে সম্পৃক্ত  ।তাই প্রজেক্ট  এর সফলতা ও গুণগত মান বজায় রাখার জন্য প্রজেক্ট এর প্রত্যেক মালিকেরই এই বিষয় সমূহর উপর সার্টিফিকেট ও প্রশিক্ষণ থাকা প্রয়োজন।এই নিয়মটি ম্যানেজমেন্ট হতে শুরু করে গ্রাম উদ্যোক্তা/মালিক পর্যন্ত প্রযোজ্য।কারন একজন মালিক যদি প্রশ্নের সম্মুখীন হয় তাহলে এর উত্তর দিতে হবে বাকি ৯৯,৯৯৯ জনকে।উদাহারনঃ  (আপনি একটি অনলাইন মার্কেট প্লেস এর মালিক,কিন্তু আপনার অনলাইন মার্কেট প্লেস সম্পর্কে কোন ধারনা নাই অথবা আপনি একটি পত্রিকার মালিক,কিন্তু আপনার কাছে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট নাই )এমনটা যদি হয় তাহলে আপনি যেকোন সময় যেকোন কারোর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন এবং চাঁদমামার সফলতা প্রশ্ন বিদ্ধ হতে পারে।
* সামাজিক কাজঃ      
           “আর্তির থালা তসবীর মালা,লাগিবে না কোন কাজে
           মানুষ করিবে মানুষের সেবা,আর যত সব বাঝে।” - কাজী নজরুল ইসলাম।
মানুষ সামাজিক জীব এবং মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার সৃষ্ট শ্রেষ্ট জীব।আমরা সবাই জানি মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। মানুষের তরে মানুষের সহায়তার হাত বাড়ানোকে সামাজিক কাজ বলা হয়।বর্তমান বিশ্বে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বসবাস করতে হলে মানুষকে অবশ্যই সামাজিক কাজ করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যেই সামাজিক কাজের প্রতি দুর্বলতা দেখা যায়। বাংলাদেশেও প্রচুর সামাজিক সংগঠন রয়েছে, চাঁদমামা এইসব সামাজিক সংগঠনকে সাথে নিয়ে সামাজিক সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য কাজ করবে।এতে দেশ ও জাতির উন্নয়ণ হবে।
* পরিবেশ রক্ষা এবং জন সচেতনতামূলক কাজঃ
পরিবেশ রক্ষাঃ বর্তমান আধুনিক যুগে সবচাইতে চিন্তার ও উদ্ধেগের বিষয় হল জলবায়ু পরিবর্তন। পরিবেশ রক্ষা বা জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই প্রদক্ষেপ না নিলে এই পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। তাই দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছ রোপন থেকে শুরু করে সকল ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাঁদমামা গুরুত্ব পুর্ণ ভুমিকা রাখবে।  জনসচেতনতা মূলক কাজঃ অসচেতনতাই একটা সমাজ বা জাতি ধ্বংস হতে পারে। সচেতনতাই পারে কুসংস্কারমুক্ত সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়তে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি,বাল্য ও বহুবিবাহ,এসিড সন্ত্রাস,মাদক,মহামারী,নৈতিক অবক্ষয় ইত্যাদি  অনেক সামাজিক সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হল জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। চাঁদমামা প্রতিটা গ্রামের মালিক/প্রতিনিধির মাধ্যমে সারাদেশের যেকোন ধরনের সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

প্রশ্নের উত্তর পর্ব
১) চাঁদ মামা কি?
উত্তর-চাঁদমামা একটা আইডিয়া বেইজড পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী।
২) নাম করণ এর কারণ কি?
উত্তরঃ বাংলা শব্দ ভান্ডারের মধ্যে সবচাইতে পরিচিত শব্দের মধ্যে চাঁদমামা  শব্দটা অন্যতম। আর ২ বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে ছোট বড় সব মানুষের কাছে পরিচিত এবং সহজ শব্দ হল চাঁদমামা।
৩) চাঁদমামার উদ্ভাবক এবং প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ- চাঁদমামার উদ্ভাবক এবং প্রতিষ্ঠাতা সিইও হলেন মোঃ আব্দুর রশিদ সোহাগ ।
৪) চাঁদমামা কত বেতন দিবে?
উত্তর- চাঁদ মামাতে সবাই শেয়ার হোল্ডার বা মালিক, চাঁদমামার প্রতিটি প্রজেক্টের লভ্যাংশ এজিএম এর মাধ্যমে সকল মালিকের মধ্যে শেয়ার ভাগ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হবে। তাই বেতন শব্দটা চাঁদমামাতে প্রযোজ্য নয়।
৫) চাঁদমামা তে মালিক হতে কত টাকা লাগে?
উত্তর- চাঁদমামাতে সদস্য বলতে কিছুই নাই চাঁদমামাতে সবাই শেয়ার হোল্ডার/মালিক, আর পৃথিবীতে এই প্রথম কোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি অর্থাৎ চাঁদমামা  কোন প্রকার বিনিয়োগ ছাড়া মালিকানা শেয়ার প্রদান করছে। কোন প্রকার বিনিয়োগ ছাড়া মালিকানা দেওয়ার কারণ হল সকল মালিক যদি নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে চাঁদমামার প্ল্যান অনুযায়ী  কাজ করে এবং চাঁদমামা থেকে প্রদত্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাহলে চাঁদমামার প্রতিটা প্রজেক্ট সফলতা পাবে। আর কাজ দিয়ে সফলতা পাওয়া গেলে বিনিয়োগ নেওয়ার দরকার কি?
৬) চাঁদমামার সদস্য হতে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন?
উত্তর- সর্ব প্রথম যোগ্যতা হল উদ্যোক্তা মনোভাবের হতে হবে, নিয়মিত ছাত্র হতে হবে, বয়স ১৮-২৫ এর মধ্যে হতে হবে, নুন্যতম এসএসসি পাস হতে হবে, অনলাইনের প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে, স্মার্ট ফোন,ট্যাব,ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এর মধ্যে যেকোন একটা থাকতে হবে, দৈর্য্যশীল এবং প্ররিশ্রমী হতে হবে। এবং ৫ রকমের কোর্স এর সার্টিফিকেট থাকতে হবে।কোর্স সমূহ হল-সাংবাদিকতা কোর্স,অনলাইন বেসিক কোর্স,ফটোগ্রাফি কোর্স,ওরাল মার্কেটিং কোর্স এবং ইংলিশ বেসিক কোর্স। কোর্স গুলো করা না থাকলে চাঁদমামা থেকে কোর্স গুলো এবং কোর্স গুলোর সার্টিফিকেট  নিতে পারবেন।
৭)  চাঁদ মামা ১ লক্ষ  উদ্যোক্তাকে মালিকানা দেওয়ার কারন কি ?
উত্তরঃ চাঁদমামা আইডিয়ার সবচাইতে ইউনিক আইডিয়া হল ১ লক্ষ উদ্যোক্তাকে মালিকানা দেওয়া কারন একজন মালিক এবং একজন চাকরিজীবীর কাজের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। মালিক নিজের জন্য মন থেকে কাজ করে আর চাকরিজীবি পরের জন্য কাজ করে তাই চাকরিজীবির কাজ আর মালিকের কাজে অনেক পার্থক্য।
৮) চাঁদ মামা ১ লক্ষ মালিক যে কোন একটা বিভাগ থেকে নিতে পারত,তা না করে পুরো বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার কারন কি ?

উত্তরঃ ১লক্ষ মালিক যদি একটা বিভাগ থেকে নেওয়া হয় তাহলে শুধু ঐ বিভাগেই হবে ব্যবসার পরিধি বা ঐ বিভাগের জনগণই হবে কাস্টমার/গ্রাহক, আর পুরো বাংলাদেশ থেকে নিলে সারা বাংলাদেশ এবং ১৭ কোটি মানুষই আমাদের কাস্টমার/গ্রাহক হবেন ফলে আয়ও বেশী করা যাবে। মানে পুরো বাংলাদেশ কভারেজ করলে খুবই কম সময় এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেক প্রকারের সুবিধা ও আয় করা সম্ভব।

This Is The Newest Post

9 comments

Hi. Ami apnader sate kivabe jogajog korte parbo

If,Your suggestion is acceptable so Thanks

This comment has been removed by the author.

উন্নত দেশগুলোতে ই-কমার্স বিজনিস অনেক জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের ই-কমার্স সাইট তেমন একটা জনপ্রিয় নয় । এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারন লক্ষ্য করা যায় । জানুন বিস্তারিত : https://shebabinimoy.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f/

অসাধারণ হয়েছে...এই পোস্টের আকারের চেয়ে আরো তিন গুন বড় কমেন্ট করে ও এই পোস্টের গুন প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। আপনার প্রতিনিয়ত পোস্টের মান দেখে আমি সত্যিই আশ্চর্য হয়ে যাই।
আপনি সত্যিই একজন জিনিয়াস �� এরকম একটি ব্লগের নিয়মিত পাঠক হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সত্যি আজ অসম্ভব সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন।স্যার এই সাইট টা আমি নতুন তৈরি করলাম একটু ঘুরে আসেন কেমন সাইট টা font copy and paste����

rajbarite ki apnader treget filap hoyegece


EmoticonEmoticon